২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, বরিশাল অফিসার্স মেস থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেনা কাস্টডিতে রয়েছেন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জানা গেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ঢাকা সেনানিবাসে আনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হন। ওই ঘটনায় তৎকালীন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকা মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যেসব বাংলাদেশি কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তাদের মধ্যে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও ছিল।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।
জানা গেছে, রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ওই অভিযোগে মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেই গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।