মনিরুল ইসলাম: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সৃষ্ট সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে অফিস কার্যক্রম শুরু করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এক অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের সূচনা হলো।
জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে অফিস করছেন এবং রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছেন। তবে তিনি স্থায়ীভাবে বঙ্গভবনে অবস্থান না করে সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকারের সরকারি বাসভবন থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রথম কর্মদিবসে তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পর্যালোচনা, চলমান প্রশাসনিক ফাইল নিষ্পত্তি এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ প্রেক্ষাপটে শিগগিরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
দিনের প্রথম কর্মসূচিতে সকাল ১১টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রথম কর্মদিবস মূলত প্রতীকী হলেও এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে আইন অনুমোদন, নিয়োগ এবং অন্যান্য সাংবিধানিক কার্যক্রম—এখন তাঁর মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুসরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছেন।
আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে দুপুরে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রথম দিনের কার্যক্রম দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সবার দৃষ্টি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে।