পুলিশের তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিসহ বাহিনীর ১৭ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন ডিআইজি, ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং দুজন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো ডিআইজিরা হলেন, হাইওয়ে পুলিশের মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার মো. ওয়ালিদ হোসেন এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সানা শামীনুর রহমান।
অবসরে পাঠানো অতিরিক্ত ডিআইজিরা হলেন, সিআইডির মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন ও রেবেকা সুলতানা, টুরিস্ট পুলিশের বিধান ত্রিপুরা ও সুলতানা নাজমা হোসেন, পুলিশ স্টাফ কলেজের এ কে এম ইকবাল হোসেন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহেলী ফেরদৌস, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, পুলিশ টেলিকমের হাসিনা রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের (কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল) ফয়সল মাহমুদ ও কানিজ ফাতেমা, নৌ পুলিশের জেসমিন বেগম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন।
এ ছাড়া অবসরে পাঠানো দুই পুলিশ সুপার হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান এবং টিডিএসের পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার আওতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২০ জন অতিরিক্ত আইজিপি এবং ২৫ জন ডিআইজি রয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে সমালোচিত পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনে কোনো উল্লেখ করা হয়নি।