শিরোনাম
◈ তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিহিংসামুক্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির প্রত্যাশা জাপার ◈ ইরানে হামলার ব্যাপারে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ ভাবছেন ট্রাম্প ◈ নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠনে আবারও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মাহফুজ আলমের ◈ সিরিয়ায় আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা ◈ ‘মুজিব ভাই’ বিতর্ক: ৪২ কোটি যেভাবে ৪ হাজার কোটি টাকা হলো ◈ পাকিস্তানি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের বিশেষত্ব কী, কেন কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ? ◈ মোটরসাইকেল কিনলে দুটি হেলমেট ফ্রি দেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে: বিআরটিএ চেয়ারম্যান ◈ চিনি দিয়ে নকল খেজুরের রস বানিয়ে বোকা বানানো হচ্ছে ক্রেতাদের!(ভিডিও) ◈ 'মা আমাকে ছেড়ে যেও না', ডিভোর্সের পর সন্তান নিতে চাইল না কেউ, বুক ফাটা দৃশ্য ভাইরাল! (ভিডিও) ◈ ভারতের অন্য ভেন্যুতে খেলার বিষয়ে যা জানাল বিসিবি সভাপতি (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৪৯ রাত
আপডেট : ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসন ম্যানেজ করে চলছে ডাবল ডেকার বাস, বাড়ছে ডাবল ঝুঁকি

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) অনুমোদন ছাড়াই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে চলছে ডাবল ডেকার বিলাসবহুল স্লিপার বাস। সড়ক পরিবহন আইন ও নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী এসব বাস পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমতি না থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। এসব বাসে যাতায়াত করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চলতে গিয়ে হঠাৎ ব্রেক করলে অথবা অধিক গতিতে মোড় ঘোরার সময় এসব বাস উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিআরটিএ জানায়, অনুমোদন না থাকার পরও এসব আগে থেকেই চলছে। এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়কেই ব্যবস্থা নিতে হবে। খোদ মালিকপক্ষ জানিয়েছে, বিআরটিসি ব্যতীত বিদেশ থেকে ডাবল ডেকার বা স্লিপার বাস আমদানির কোনো নিয়ম নেই। তারপরও তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডাবল ডেকার অথবা স্লিপার বাস তৈরি করে থাকেন ওয়ার্কশপগুলোতে। তবে বাসগুলোর নম্বর প্লেট কিন্তু সাধারণ বাসেরই। অভিযোগ রয়েছে, তদারকি না থাকায় শুধু ডাবল ডেকার বা স্লিপার নয়, বিআরটিএ এর সাথে যোগসাজশ করে একটা নম্বরে ৩/৪টা বাসও চলাচল করে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামো বিশেষ করে ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ, বিদ্যুতের ঝুলন্ত তার এবং সড়ক সাইনবোর্ড-ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের জন্য উপযোগী নয়। এ কারণে নতুন করে এ ধরনের বাসের রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিট দেওয়া হয়নি। তবুও কিছু পরিবহন মালিক নিয়মের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে এসব বাস রাস্তায় নামাচ্ছেন। একটি-দু’টি করে এখন এসব বাসের সংখ্যা কয়েক শ’। বিআরটিএ সূত্র জানায়, এর আগে বিআরটিএ মোট ১২৩টি বাসের তালিকা করেছিল। সেগুলো বন্ধের ব্যাপারে সুপারিশও করে বিআরটিএ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সে সুপারিশ কার্যকর হয়নি। স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর ব্যাটারি রিকশার মতো এসব বাসের সংখ্যাও বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। আগে এসব বাস চলতো শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে। এখন তা বেড়ে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-কুয়াকাটা রুটেও চলাচল করছে। মজার বিষয় হলো, দেশের খ্যাতিমান পরিবহন ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউই এখনও এসব অবৈধ বাস সড়কে নামাননি। যেমনÑ এস আর ট্রাভেলস, হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, এস আলম। একজন মালিক বলেন, জেনেশুনে কেন অবৈধভাবে কোটি টাকা বিনিয়োগ করবো? এতে যেমন যাত্রীদের জান-মালের ঝুঁকি বেশি, তেমনি যেকোনো মুহূর্তে ব্যবসা বন্ধ হওয়ারও ঝুঁকি আছে। পরিবহন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত বিদেশ ফেরত টাকাওয়ালা অথবা কালো টাকা সাদা করার জন্যই একশ্রেণির মালিক ডাবল ডেকার ও স্লিপার বাস ব্যবসার সাথে জড়িত। বেশ কিছুদিন হলো জামায়াতে ইসলামের সাথে জোটবদ্ধ একটি ইসলামী দলের আমিরও আইকনিক নামে বেশ কয়েকটি ডাবল ডেকার ও স্লিপার বাস নামিয়েছেন ঢাকা-কক্সবাজার রুটে। পদ্মা সেতু হওয়ার পর ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-কুয়াকাটা রুটেও চলছে আইকনিক ডাবল ডেকার অথবা স্লিপার বাস।

সরেজমিন দেখা গেছে, ডাবল ডেকার বাসগুলোতে নীচতলায় বিজনেস ক্লাস সিট থাকে ১৬টি। এসব সিটের উপরে খুব অল্প উচ্চতার স্লিপার বসানো হয়েছে। যেগুলোর পাশে কোনো শক্ত বা নিরাপদ সাপোর্ট নেই। কাঁচই ভরসা। কোনো কারণে বাসের কাঁচ ভেঙে গেলে যাত্রী ছিটকে গিয়ে পড়বেন। স্লিপারে বসার মতো উচ্চতাও নেই। রেলিং দিয়ে উঠে সরাসরি শুতে হয় যাত্রীদের। চট্টগ্রাম থেকে সম্প্রতি স্লিপারে শুয়ে আসা একজন যাত্রী তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, এটা পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ। আমি ভয়ে ঘুমাতে পারিনি। সারাপথ আল্লাহ আল্লাহ করেছি। এ ছাড়া চলার সময় বাস এমনভাব দোলে যাতে প্রায়ই মনে হয়-এই বুঝি উল্টে গেল! জানা গেছে, সাধারণ বাসের তুলনায় লাভ বেশি বলে এখন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরেরপুল, কলাবাগান, দোলাইরপাড়, গাবতলী, মহাখালী, রাজারবাগ, মানিকনগর থেকে ডাবল ডেকার স্লিপার বাস ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসব বাসের মধ্যে রয়েছে সেন্টমার্টিন, পাবনা এক্সপ্রেস, তূর্য পরিবহন, প্রেসিডেন্ট, দেশ বাংলা এক্সপ্রেস, মল্লিক পরিবহন, আইকনিক, সোহাগ পরিবহনসহ আরো বিভিন্ন নামের বাস। এগুলোর মধ্যে সোহাগ এবং সেন্টমার্টিনের মালিক পুরনো পরিবহন ব্যবসায়ী। বাকিগুলো কেউই পরিবহন ব্যবসায়ী নন।

জানা গেছে, বাংলাদেশে বৈধভাবে ডাবল ডেকার বাস আমদানি করা হয় ভারতের অশোক লেল্যান্ড থেকে। এই বাসগুলো সাধারণত বিআরটিসিতে চলাচল করে। এই বাসগুলোর চেচিস ১২ মিটার উপরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের উচ্চতা ও ওজন সাধারণ বাসের তুলনায় বেশি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহু গুণে বাড়ে। হঠাৎ ব্রেক, তীব্র বাঁক বা নিচু ব্রিজের সঙ্গে সংঘর্ষে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘপথে চলাচলকারী স্লিপার বাসগুলো যাত্রীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, একই নম্বরে একাধিক দূরপাল্লার বাসে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ডাবল ডেকার বাসগুলোর বেশিরভাগই বিকল্প নম্বর প্লেট দিয়ে চলছে। কোনো কোনো বাস আবার এক নম্বরে ৩/৪টিও চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর নেপথ্যের কারিগর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও বিআরটিএ-এর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে একটা চেসিস আমদানি করার সাথে সাথে সেই চেসিসে নম্বর প্লেট তৈরি হয়ে যায়। অথচ সাধারণ ওই বাসটিই তৈরি করা হয় ডাবল ডেকার স্লিপার বাস। একই নম্বরে আরো ২/৩টি বাস চলাচল করে। মালিকপক্ষ জানায়, যে নম্বরের বাসটি ঢাকা থেকে কক্সবাজার যায় সেটি হয়তো ছাড়ে মতিঝিল থেকে, একই নম্বরের আরেকটি সাধারণ দূরপাল্লার বাস উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছাদে গাবতলী অথবা মহাখালী থেকে। এমন অনিয়ম বিআরটিএ বা পুলিশ ছাড়া কেউই ধরতে পারবে না। কক্সবাজারের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও এসব অনিয়মের কথা জানান। তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ডাবল ডেকার বাস চলে পুলিশ ও বিআরটিএ-কে ম্যানেজ করে। তবে তারা দাবি করেন, এভাবে হাজার হাজার যাত্রীর জীবন নিয়ে খেলতে দেয়া যায় না। প্রয়োজনে তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে চান এসব বাস বন্ধ করার জন্য। ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন বলেন, ডাবল ডেকার মানে ডাবল রিস্ক। এমনিতেই আমাদের দেশের সড়কগুলো চলাচলের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। তারপরও ভিআইপি পরিবহনের নামে এসব পরিবহনে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছা করলে এগুলো বন্ধ করতে পারে। কিন্তু কেন করে না- তা সবারই জানা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, সড়কে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান না থাকায় অনুমোদনহীন এসব বাস নির্বিঘেœ চলাচল করছে। অনেক ক্ষেত্রেই মোবাইল কোর্টের অভিযান সীমিত বা এককালীন হওয়ায় মালিকপক্ষ কার্যত দায়মুক্তি পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ এর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ডাবল ডেকার বা স্লিপার বাস অবৈধ বা এসবের কোনো রুট পারমিট নেই তা স্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় এদিকে নজর দিলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো। কারণ আমরা আগেই এসব বাসের একটা তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়