শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে নিজেদের গোপন নেটওয়ার্ক গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা: জাতিসংঘের সতর্কর্তা ◈ বন্ধ হলো সামিটের এলএনজি সরবরাহ, গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা ◈ র‍্যাবের টিএফআই সেলে পৈশাচিক নির্যাতন: ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসকের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি ◈ সবার মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ ◈ লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল হবে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব: নৌপরিবহন মন্ত্রী ◈ সিসিটিভিতে মারধরের দৃশ্য, ছাত্রদল নেতার ঘটনায় ইউএনও বদলি ◈ ৭ জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস ◈ ২৬ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকছে ◈ স্থানীয় নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কাজের নির্দেশ তারেক রহমানের ◈ হবিগঞ্জে ভয়াবহ গ্যাস সংকট : বন্ধ ১৭১ কারখানা, বেকার দেড় লাখ শ্রমিক

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৬, ০১:২৪ রাত
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফ্রিজে মাংস রাখছেন? যেসব ভুল করছেন অনেকেই

কোরবানির ঈদে ঘরে সবচেয়ে বড় ব্যস্ততার একটি হলো মাংস সংরক্ষণ। কিন্তু প্রতি বছরই একই ধরনের কিছু ভুলের কারণে অনেক পরিবারকে পরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কখনো ফ্রিজে জায়গা সংকট, কখনো দুর্গন্ধ, আবার কখনো মাংস ঠিকমতো না জমার মতো সমস্যায় নষ্ট হয় স্বস্তি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির মাংস সংরক্ষণে বেশির ভাগ সমস্যার পেছনে থাকে কিছু সাধারণ অসতর্কতা। সামান্য পরিকল্পনা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এসব ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্রিজ না গুছানো: সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি হলো ঈদের আগ পর্যন্ত ফ্রিজ না গুছানো। অনেকের ফ্রিজেই পুরোনো ফ্রোজেন খাবার, আধখাওয়া আইসক্রিম বা অচেনা বক্স জায়গা দখল করে থাকে। ফলে কোরবানির মাংস রাখার সময় হঠাৎ করেই জায়গা সংকট তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঈদের অন্তত এক-দুই দিন আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা উচিত।

মাংস সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া: অনেকে কাটা মাংস প্যাকেট করেই দ্রুত ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং অন্য খাবারও প্রভাবিত হতে পারে। মাংস কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর প্যাকেট করে ফ্রিজে রাখলে সংরক্ষণ নিরাপদ হয়।

অতিরিক্ত গাদাগাদি করে রাখা: ফ্রিজে যতটা জায়গা আছে, তার চেয়ে বেশি মাংস গুঁজে রাখার প্রবণতা খুবই সাধারণ। কিন্তু এতে ঠান্ডা বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ফলে কিছু প্যাকেট শক্ত হয়ে জমে গেলেও কিছু অংশ আধা-গলা অবস্থায় থেকে যায়। এতে মাংস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ফ্রিজের কুলিং সিস্টেমের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

সব ধরনের মাংস একসঙ্গে মিশিয়ে রাখা: অনেকেই কিমা, হাড়সহ মাংস, কলিজা বা নেহারি আলাদা না করে একসঙ্গে প্যাকেট করেন। পরে প্রয়োজনের সময় কোন প্যাকেটে কী আছে, সেটাই আর মনে থাকে না। এ কারণে মাংস আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্যাকেট করা ভালো। প্যাকেটের ওপরে নাম লিখে রাখলে আরও সুবিধা হয়।

পাতলা বা নিম্নমানের ব্যাগ ব্যবহার: বাজারের পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগে মাংস রাখলে তা বরফের সঙ্গে লেগে যেতে পারে। পরে টানতে গেলে ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপানি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। মোটা ও ফ্রিজ-উপযোগী ব্যাগ বা জিপ-লক ব্যবহার করলে এই ঝামেলা কমে।

সমতলভাবে প্যাকেট না করা: বড় গোলাকার ব্যাগে গুঁজে মাংস রাখলে তা জমতে বেশি সময় লাগে। আবার ফ্রিজে স্তূপ করেও রাখা কঠিন হয়। পাতলা ও সমানভাবে ভাগ করে প্যাকেট করলে মাংস দ্রুত জমে এবং জায়গাও কম লাগে।

লিকেজ পরিষ্কার না করা: ঠিকমতো না জমলে প্যাকেট থেকে রক্তপানি বের হয়ে ফ্রিজের ট্রেতে জমে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। ফ্রিজের নিচে ট্রে, খবরের কাগজ বা প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করলে পরিষ্কার করা সহজ হয়।

বারবার ফ্রিজ খোলা: ঈদের সময় প্রায়ই দেখা যায়, কেউ না কেউ কিছুক্ষণ পরপর ফ্রিজ খুলে দেখছেন সব ঠিক আছে কি না। কিন্তু বারবার ফ্রিজ খোলা হলে ভেতরের তাপমাত্রা ওঠানামা করে, যা মাংস দ্রুত জমতে বাধা দেয়। যে প্যাকেটগুলো বেশি ব্যবহার হবে, সেগুলো সামনে রাখলে অযথা পুরো ফ্রিজ ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতা ও পরিকল্পনাই কোরবানির মাংস দীর্ঘ সময় নিরাপদ ও ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়