দীর্ঘ ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা রোজা রাখার পর শরীরের প্রতিটি কোষের সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী ইফতারে সাধারণত থাকে বেগুনি, পেঁয়াজু ও আলুর চপ। তবে এই তেল-মশলাযুক্ত ভাজাপোড়া খাবারগুলো খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে।
ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরে তাৎক্ষণিক প্রাণচঞ্চলতা ফিরিয়ে দিতে ‘দই-চিড়া’ হতে পারে ইফতারের একটি আদর্শ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প। পুষ্টিবিদদের মতে, রমজানে পেট ঠান্ডা রাখা এবং দ্রুত শক্তি পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য এর চেয়ে ভালো খাবার কমই আছে।
চিড়া মূলত শুকনো চাল থেকে তৈরি একটি সহজপাচ্য শর্করা, যা প্রচুর কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। এটি দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরকে তাৎক্ষণিক চনমনে করে। অন্য দিকে, দই হলো একটি প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস।
বিশেষভাবে ইফতারে মিষ্টি দইয়ের চেয়ে টক দই বেশি উপকারী। এটি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। দই ও চিড়ার এই সমন্বয় শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পানির অভাব পূরণ করে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে।
পুষ্টিবিদরা বলেন, চিড়ায় পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে। তাই যারা কিডনির সমস্যা নিয়ে ভুগছেন, তাদের জন্য ইফতারে চিড়া নিরাপদ ও উপকারী। এছাড়া, চিড়ায় আঁশের পরিমাণ কম থাকায় এটি অন্ত্রের প্রদাহ, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।