শিরোনাম
◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন

প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৬, ০৭:১৭ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জানেন কি, একটি জিন্স প্যান্ট তৈরি করতে লাগে ১০ হাজার লিটার পানি!

জিন্স প্যান্ট পরেন অনেকেই। ফ্যাশনের অংশ হিসেবে এটি সবার পরিচিত পোশাক। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার পরনের একটি জিন্স তৈরি হতে কতটা পানি খরচ হয়? অবাক করার মতো হলেও সত্যি, একটি জিন্স প্যান্ট তৈরিতে গড়ে ৭ থেকে ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১৫ হাজার লিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

অর্থাৎ একজন মানুষ যদি প্রতিদিন তিন লিটার পানি পান করেন, তাহলে একটি জিন্স তৈরিতে ব্যবহৃত পানি দিয়ে প্রায় ৯ বছর তার পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

advertisement

প্রশ্ন হলো, এত পানি যায় কোথায়?

জিন্স তৈরির মূল উপাদান হলো তুলা। আর তুলা পৃথিবীর অন্যতম পানিনির্ভর ফসল। এক কেজি তুলা উৎপাদনে প্রায় ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হয়। একটি জিন্স তৈরিতে প্রায় ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত তুলা লাগে। ফলে শুধু তুলা চাষেই একটি জিন্সের মোট পানির বড় অংশ খরচ হয়ে যায়।

advertisement

তুলাগাছ সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়ায় জন্মালেও ভালো ফলনের জন্য প্রচুর কৃত্রিম সেচ দিতে হয়। বিশ্বের মোট কৃষিজমির খুব সামান্য অংশে তুলার চাষ হলেও এটি কৃষিক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ সেচের পানি ব্যবহার করে। এমনকি মধ্য এশিয়ার আরাল সাগরের পানিও একসময় তুলা চাষের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বিশাল এই জলভাগ প্রায় হারিয়ে গেছে।

তুলা থেকে সুতা, এরপর কাপড় তৈরির পর শুরু হয় জিন্সের আসল রূপ দেওয়ার কাজ। ডেনিমের পরিচিত নীল রং আসে বিশেষ ধরনের রং থেকে। এই রং কাপড়ে ভালোভাবে বসাতে সুতাকে বারবার রঙের দ্রবণে ডুবিয়ে শুকানো হয়। গভীর নীল রং আনতে অনেক সময় এই প্রক্রিয়া ১৫ থেকে ২০ বার পর্যন্ত করতে হয়। শুধু রং করার কাজেই একটি জিন্সে কয়েকশ লিটার পানি ব্যবহার হয়।

advertisement

এরপর আসে কাপড় নরম করা, সংকোচন কমানো এবং পুরোনো ধাঁচের চেহারা দেওয়ার প্রক্রিয়া। বাজারে পাওয়া হালকা রঙের, পুরোনো বা ছেঁড়া ভাবের জিন্সগুলো কারখানাতেই বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এসব কাজে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিবারই প্রচুর পানি দিয়ে ধুতে হয়।

বিজ্ঞানীরা এই পুরো ব্যবহৃত পানিকে বলেন ‘লুকানো পানি’। অর্থাৎ কোনো পণ্য তৈরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে পানি ব্যবহার হয়, তার হিসাবই এর মধ্যে ধরা হয়। জিন্সের ক্ষেত্রেও এমন অনেক পানি খরচ হয়, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না।

তবে শুধু পানির অপচয় নয়, রয়েছে দূষণের সমস্যাও। জিন্স তৈরির কারখানার বর্জ্য পানিতে রং, রাসায়নিক ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে। পরিশোধন ছাড়া এসব পানি নদীতে মিশলে পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।

তবে পরিবর্তনের চেষ্টাও চলছে। কিছু বড় পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পানির ব্যবহার কমানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিশেষ ধরনের ধোয়ার পদ্ধতি, নতুন প্রযুক্তি ও পানি পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পানির অপচয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কোটি কোটি জিন্স তৈরি হয়। প্রযুক্তির উন্নতি হলেও এত বিপুল উৎপাদনের কারণে পানির ওপর চাপ এখনো রয়ে গেছে।

তাই পরেরবার জিন্স কেনার সময় শুধু দাম বা নকশা নয়, একবার ভাবুন—এই একটি পোশাকের পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার লিটার পানির গল্প।

  • সর্বশেষ