রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ভালোবাসা একজন মুমিনের ইমানের অন্যতম প্রধান শর্ত ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। নবীজি (সা.)-এর প্রতি আমাদের এই ভালোবাসা প্রমাণ করতে হয় বাস্তব আমল ও আচরণের মাধ্যমে। রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসার পাঁচটি প্রধান পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সুন্নাহ বা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা: আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)। তাই আমাদের দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগি, লেনদেন, পারিবারিক ও সামাজিক আচার-আচরণে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ করতে হবে।
২. বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা: নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম সহজ ও বরকতময় মাধ্যম হলো তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পেশ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)
৩. তাঁর অনুপম চরিত্র নিজের জীবনে ধারণ করা: হজরত আয়েশা (রা.)-কে রাসুল (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সংক্ষেপে উত্তর দিয়েছিলেন—‘তাঁর চরিত্র ছিল কোরআন।’ (সহিহ মুসলিম: ৭৪৬)। নবীজি (সা.)-এর সততা, আমানতদারি, পরোপকার, ক্ষমাশীলতা, দয়া ও নম্রতা—এই গুণগুলো নিজেদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে প্রকৃত উম্মত হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে।
৪. তাঁর দ্বীনি শিক্ষা ও সুন্নাহ প্রচার করা: নবীজি (সা.)-এর আনীত দ্বীন ও আদর্শ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেক মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটি মাত্র আয়াত হলেও তা (অন্যের কাছে) পৌঁছে দাও।’ (সহিহ বুখারি: ৩৪৬১)
৫. সব সময় ভক্তি, সম্মান ও আনুগত্য করা: নিজের জান, মাল, বাবা-মা ও সন্তানের চেয়েও নবীজি (সা.)-কে বেশি ভালোবাসা ইমানের দাবি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং পৃথিবীর সব মানুষের চেয়েও অধিক প্রিয় হব।’ (সহিহ বুখারি: ১৫)
লেখক: আসাদুল্লাহ সোলায়মান, খতিব ও শিক্ষক । সূত্র: আজকের পত্রিকা