শিরোনাম
◈ ব্যাংকে আমানতের সুদ কমছে, সঞ্চয়ের টাকা কোথায় রাখলে নিরাপদ ও বেশি লাভ? ◈ সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা যাচাই করছে সরকার ◈ সাজেকে অবরোধ-সহিংসতায় পর্যটন ব্যবসায় ধসের শঙ্কা, পর্যটকশূন্য ভ্যালিতে ৭৬ কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ে শঙ্কা! ◈ মাতারবাড়ীতে কয়লার ছাই ফেলার জমিতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ, অর্থায়ন করবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ◈ আসামি নিয়ে ফেরার পথে কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় এসআই ও বিএনপি নেতা নিহত ◈ আবারও কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমে নতুন দর যা হল ◈ ইউরোপের অস্থিরতায় নতুন সংকটের মুখে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প, রফতানি কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ ◈ তিন দিন বন্ধ থাকবে থাইল্যান্ডের ই-ভিসা আবেদন, জানাল দূতাবাস ◈ স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া বিএনপি ◈ ময়মনসিংহ মেডিকেলের ময়লার সঙ্গে ‘কায়দা করে’ পাচার করা হয় সিরিঞ্জ-ক্যানুলা-স্যালাইন, পরে পাইকারি দরে বিক্রি

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ দুপুর
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাত আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে, আমরা কি তা শুনতে পাই?

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সাত আকাশ, পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে, সবই তাঁর (আল্লাহর) পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এমন কিছু নেই, যা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে না।

কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৪৪)

এটি একটি মহান আয়াত। যে ব্যক্তি এই আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে বুঝতে পারবে যে সব সৃষ্টিই তাদের রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে।

মানুষ, গাছপালা, নক্ষত্র—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। তবে যে বিষয়টি চিন্তনীয় তা হলো—আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না।’

Advertisement

তিনি বলেননি, ‘কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ শুনতে পাও না।’ তাহলে কি এমন হতে পারে যে আমরা এসব সৃষ্টির তাসবিহর শব্দ শুনতে পারি, কিন্তু তার অর্থ বুঝতে পারি না? কারণ কোনো কথা শোনার পরই তা বোঝার বিষয়টি আসে।

অন্যভাবে বললে, আমরা যদি কাউকে বলি—‘তুমি আমাদের কথা বুঝতে পারছ না’, তাহলে এর অর্থ হতে পারে—আমরা তার সামনে কথা বলছি, সে আমাদের কথা শুনছেও, কিন্তু আমরা কী বলছি, তা সে বুঝতে পারছে না।

এখান থেকে লেখক ধারণা করেছেন যে এই পবিত্র আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইঙ্গিত দিয়েছেন—আমাদের চারপাশের সব কিছু থেকে নির্গত তাসবিহর শব্দ আমরা শুনতে পারলেও সেগুলোর অর্থ উপলব্ধি করতে পারব না।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু বিষয় আবিষ্কার করছেন, যেগুলো নিয়ে এই ভাবনা আরো এগিয়ে নেওয়া যায়—

উদ্ভিদের শব্দ : বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছেন, কিছু উদ্ভিদ থেকে এমন শব্দতরঙ্গ নির্গত হয়, যা মানুষের শ্রবণসীমার মধ্যে পড়তে পারে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পাঙ্কের মধ্যে থাকা শব্দ মানুষের শ্রবণযোগ্য সীমার অন্তর্ভুক্ত। তবে উদ্ভিদ থেকে নির্গত কিছু সংকেত এত দুর্বল হতে পারে যে সেগুলো সরাসরি শোনা যায় না; যন্ত্রের সাহায্যে সেগুলোকে বিবর্ধিত করতে হয়।

নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বরের শব্দ : বিজ্ঞানীরা কিছু নক্ষত্র ও মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দসংকেত শনাক্ত করেছেন। নিউট্রন নক্ষত্র থেকে আসা সংকেতকে কখনো হাতুড়ির আঘাতের মতো শব্দ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গেও শব্দের ধারণা যুক্ত হয়েছে। এমনকি মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সংকেত থেকেও বিজ্ঞানীরা শব্দের অনুরূপ উপস্থাপনা তৈরি করেছেন।

জীবন্ত কোষের শব্দ : ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক গিমজেউস্কির (Gimzewski) মতে, বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে জীবন্ত কোষের কম্পন শনাক্ত করা সম্ভব এবং বিভিন্ন কোষের কম্পনের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের কোষের কম্পন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রাণী, পোকামাকড় ও অণুজীবের শব্দ : ডলফিন, ঝিঁ ঝিঁ পোকা, পাখি, মৌমাছি এবং অন্যান্য জীব বিভিন্ন ধরনের শব্দ বা কম্পন তৈরি করে।

ভবিষ্যতে বিজ্ঞান হয়তো পরমাণুর কম্পন সম্পর্কেও আরো নতুন তথ্য আবিষ্কার করবে। তখন সৃষ্টিজগতের সবকিছু আল্লাহর তাসবিহ করে—এই কোরআনিক বক্তব্যের তাৎপর্য আরো গভীরভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হতে পারে।

সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য : আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর নিজস্ব কম্পন বা বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।  তাহলে এমন কোনো অদৃশ্য শক্তি কি নেই, যা সর্বত্র বিদ্যমান এবং আমরা যা দেখি বা অনুভব করি, তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে?

সেই শক্তি কি মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা হতে পারে না? আর এসব শব্দ বা কম্পন কি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, তাঁর মহিমা ঘোষণা এবং তাঁর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে না?

কেন আল্লাহর তাসবিহ থেকে উদাসীন থাকব?

যদি সৃষ্টিজগতের সবকিছু রাত-দিন আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে ক্লান্ত না হয়ে এবং বিরতি না দিয়ে, তাহলে আমরা কেন আল্লাহর স্মরণ থেকে ভুলে থাকব? যদি এমন ক্ষুদ্র জীবও আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে—যাকে খালি চোখে দেখা যায় না, তাহলে আমরা—যারা নিজেদের মুমিন বলে দাবি করি, আমাদের কি আরো বেশি তাসবিহ করা উচিত নয়?

(মাওসুআতুল ইজাজিল ইলমি ফিল কোরআনি ওয়াস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ অবলম্বনে) সূত্র: কালের কন্ঠ

  • সর্বশেষ