শিরোনাম
◈ ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর, যেভাবে পাল্টে গেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সমীকরণ ◈ চার দশকের অপেক্ষার অবসান, ২০ নভেম্বর চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন ◈ সাজেক দখলে মরিয়া দুই পক্ষ, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ◈ ২০২৭ সালের জুনে চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প, উপকৃত হবে ২০ লাখ মানুষ ◈ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভুলে ২০ লাখ পাঠ্যবই সংশোধনের উদ্যোগ, বাড়ছে ব্যয়ের শঙ্কা ◈ ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য, জাপানি কনসোর্টিয়ামের ৪ শর্তে আটকে চুক্তি! ◈ এসবিআই ব্যাংকের ৩ লাখ ৮০ হাজার নথি চুরির দাবি হ্যাকারদের, গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের শঙ্কা ◈ তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নভেম্বরে, মোদির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে যেসব ইস্যু: ইন্ডিয়া এম্পায়ারের নিবন্ধ ◈ কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা নয়ন গ্রেপ্তার, আদাবরে আরও অপকর্মের অভিযোগ ◈ পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর পরিকল্পনা, কলকাতা যেতে সময় লাগতে পারে মাত্র ৬ ঘণ্টা

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০৭ সকাল
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রোগমুক্তির জন্য তেল-পানি পড়া কি জায়েজ?

পবিত্র কুরআনকে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য শিফা বা আরোগ্য এবং রহমত হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। কুরআনে মানুষের আত্মিক ও শারীরিক বিভিন্ন ব্যাধির নিরাময় ও সমাধানের দিকনির্দেশনা রয়েছে।

এক প্রশ্নকারী জানতে চান, তেল-পানি পড়া খাওয়া জায়েজ, নাকি বিদআত? বর্তমানে প্রচলিত তেল-পানি পড়া কি জায়েজ?

উত্তরে গাজীপুরের মিরাশপাড়ার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও মাসনুন দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করা অথবা তেলে ফুঁ দিয়ে শরীরে মালিশ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ। এটি বিদআত বা নাজায়েজ কাজ নয়।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন,

Advertisement

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ

অর্থ: ‘আর আমি কুরআন নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা (নিরাময়) ও রহমত।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৮২)

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে

عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ أَحْمَدُ: وَهُوَ مَرِيضٌ، فَقَالَ: «اكْشِفِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ» ... ثُمَّ أَخَذَ تُرَابًا مِنْ بَطْحَانَ فَجَعَلَهُ فِي قَدَحٍ، ثُمَّ نَفَثَ عَلَيْهِ بِمَاءٍ وَصَبَّهُ عَلَيْهِ.

অর্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ সাবেত ইবনে কায়েস (রা.)-এর কাছে যান এবং তার জন্য রোগমুক্তির দোয়া করেন। এরপর তিনি বাতহান প্রান্তর থেকে মাটি নিয়ে একটি পাত্রে রাখেন। তারপর তাতে পানিসহ ফুঁ দেন এবং সেই পানি তার ওপর ঢেলে দেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৮৮৫)

বর্তমানে প্রচলিত তেল-পানি পড়া জায়েজ হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

১. পড়াটি শরিয়তসম্মত হতে হবে

পঠিত বিষয়টি স্পষ্ট কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম অথবা অর্থবোধক মাসনুন দোয়া হতে হবে। অর্থহীন শব্দ, কুফরি মন্ত্র কিংবা শিরকযুক্ত বাক্য থাকলে তা হারাম ও নাজায়েজ।

২. আরোগ্যদাতা আল্লাহ, এই বিশ্বাস রাখতে হবে

বিশ্বাস রাখতে হবে, আরোগ্য দানকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তেল বা পানি কেবল একটি মাধ্যম। এগুলো নিজে থেকে রোগমুক্তি দিতে পারে, এমন বিশ্বাস রাখা যাবে না।

৩. প্রতারণা ও তান্ত্রিকতা থেকে বিরত থাকতে হবে

তান্ত্রিকতা, গণকবৃত্তি কিংবা মানুষের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তেল-পানি পড়ার ব্যবসা করা নাজায়েজ।

সারকথা, শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে কুরআনের আয়াত ও দোয়া পড়ে পানিতে বা তেলে ফুঁ দিয়ে তা পান করা কিংবা ব্যবহার করা জায়েজ। তবে এ ক্ষেত্রে শিরক, কুসংস্কার ও প্রতারণা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সূত্র: মুসলিম বাংলা

  • সর্বশেষ