শিরোনাম
◈ ২০২৭ সালের জুনে চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প, উপকৃত হবে ২০ লাখ মানুষ ◈ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভুলে ২০ লাখ পাঠ্যবই সংশোধনের উদ্যোগ, বাড়ছে ব্যয়ের শঙ্কা ◈ ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য, জাপানি কনসোর্টিয়ামের ৪ শর্তে আটকে চুক্তি! ◈ এসবিআই ব্যাংকের ৩ লাখ ৮০ হাজার নথি চুরির দাবি হ্যাকারদের, গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের শঙ্কা ◈ তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নভেম্বরে, মোদির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে যেসব ইস্যু: ইন্ডিয়া এম্পায়ারের নিবন্ধ ◈ কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা নয়ন গ্রেপ্তার, আদাবরে আরও অপকর্মের অভিযোগ ◈ পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর পরিকল্পনা, কলকাতা যেতে সময় লাগতে পারে মাত্র ৬ ঘণ্টা ◈ হোসাইনের ঘূর্ণিতে ঘায়েল ও‌য়েস্ট ইন্ডিজ, ড্র হ‌লো প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ ◈ কক্সবাজারে আবারও হোটেলে আগুন, নিরাপদে বেরিয়ে এলেন ৩ শতাধিক পর্যটক ◈ বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি ১৫ দেশের ৪০৭ নাগরিক, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:০২ সকাল
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:০২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ যুগে বন্দরনগরী

২০২৭ সালের জুনে চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প, উপকৃত হবে ২০ লাখ মানুষ

আগামী বছরের জুনে চালু হবে দেশের প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ প্রকল্প। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রকল্পের ৭৮ শতাংশ কাজ

ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, বর্ষা মৌসুমে কাজটি চলছিল ধীরগতিতে। বর্তমানে বৃষ্টি নেই। তাই দ্রতগতিতে কাজ চলছে। আশা করি আগামী জুনের মধ্যেই এটি চালু করা যাবে।

এর মাধ্যমে দেশে প্রথম স্যুয়ারেজ যুগে প্রবেশ করবে চট্টগ্রাম। এটি বাস্তবায়ন হলে নগরের বড় কিছু এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে
দেশের প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে চট্টগ্রামে। এই প্রকল্পে প্রধান ও বড় চ্যালেঞ্জ হলো-রাস্তা কর্তন করে গভীরে পাইপলাইন স্থাপন। বর্তমানে চলছে এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি।
আগামী মার্চ-এপ্রিলে এই কঠিন কাজটি শেষ করার কথা। আগামী বছরের জুনে চালু হবে দেশের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রকল্পে ৭৮ শতাংশ কাজ। এর মাধ্যমে দেশে প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ যুগে প্রবেশ করবে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম ওয়াসা এটি বাস্তবায়ন করছে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসার এটিই প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প। নগরের হালিশহরে ওয়াসার ১৬৩ একর জায়গায় স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর সেই পানি সাগরে ফেলা হবে। জানা যায়, গত বর্ষাকালে রাস্তা কর্তন করে পাইপলাইন বসানোর কাজ চলেছিল ধীর গতিতে।

প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জও এ কাজটি। তবে চলতি শুষ্ক মৌসুমে পুরোদমে কাজ চলছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ডাইন স্টিম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ শেষ করে প্রকল্পটি চালু করার প্রস্তুতি চলছে। এখন পুরোদমে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। শুষ্ক মৌসুমে কাজ এগিয়ে নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা নেওয়া হবে। ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, বর্ষা মৌসুমে কাজটি চলছিল ধীর গতিতে। বর্তমানে বৃষ্টি নেই। তাই দ্রত গতিতে কাজ চলছে। আশা করি, আগামী জুন মাসের মধ্যেই এটি চালু করা যাবে। এর মাধ্যমে দেশে প্রথম স্যুয়ারেজ যুগে প্রবেশ করবে চট্টগ্রাম। এটি বাস্তবায়ন হলে নগরের বড় কিছু এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম  বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ করার সময়  নির্ধারিত ছিল। নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। পরে সময় বৃদ্ধি করে ২০২৭ সালের জুনে নির্ধারণ করা হয়। ২০২৭ সালে স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি চালু করা হবে। প্রকল্পটি কেবল চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মধ্যে হবে প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ প্রকল্প। জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওয়াসার স্যুয়ারেজের প্রথম প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৮০৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। পরে ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল প্রকল্পটি সংশোধিত প্রস্তাব একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। তাতে ব্যয় বাড়ে আরও ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের অধীন ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় পুরো শহরকে ৬টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রণীত প্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী জোন-১ এর জন্য এই স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জোন-১  এর অধীনে রয়েছে নগরীর হালিশহর, সাগরিকা, সল্টগোলা ক্রসিং, শেখ মুজিব রোড, কদমতলী, সদরঘাট, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, নিউমার্কেট, কোতোয়ালি, জামালখান, আন্দরকিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা। এতে উপকৃত হবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ। বর্তমানে দুই ভাগে চলছে প্রকল্পের কাজ। একটি হলো- পাইপলাইন বসানো এবং অপরটি হালিশহরে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ।

প্রকল্পের অধীনে মোট গভীর-অগভীর পয়োপাইপলাইন বসানো হবে ২৭২ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে ১৮২ কিলোমিটার পাইপলাইন। অবশিষ্ট ৯০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, হালিশহরে প্রকল্প এলাকায় পয়োশোধনাগার, ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট (মানুষের মল পরিশোধনাগার) প্ল্যান্ট নির্মাণে সিভিলের কাজ শেষ হয়েছে ৯৫ শতাংশ এবং  ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কাজ হয়েছে ৬০ শতাংশ। এ ছাড়া প্রকল্পের অধীনে গৃহ পয়োসংযোগ হবে ২৮ হাজার। বর্তমানে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ১৬ হাজার গৃহে। একই সঙ্গে চলছে গ্রাহক পর্যায়ে পয়ঃসংযোগ লাইন প্রদানের কাজও। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

  • সর্বশেষ