রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও শৃঙ্খলা রাখতে পারলো না বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পদক দিতে গিয়ে পদকমঞ্চের সামনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। আয়োজকদের এমন অব্যবস্থাপনা ছিল দৃষ্টিকটু।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষ ও নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। এই দুই ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেন তিনি।পুরুষদের ১০০ মিটারের পুরস্কার বিতরণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও নারীদের ইভেন্টে গিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। ১০০ মিটারে স্বর্ণজয়ী শিরিন আক্তার পদকমঞ্চে উঠে দাঁড়ালেও তখনো উপস্থিত হননি রৌপ্য ও ব্রোঞ্জজয়ী দুই অ্যাথলেট। মাইকে বারবার তাদের ডাকা হচ্ছিল। এদিকে, রাষ্ট্রপতি ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।একপর্যায়ে দৌড়ে এসে পদকমঞ্চে ওঠেন রৌপ্যজয়ী শরীফা খাতুন। রাষ্ট্রপতির সামনে পুরস্কার নিতে তার এভাবে ছুটে আসার দৃশ্যটি ছিল বিব্রতকর। তবে ব্রোঞ্জজয়ী সুমাইয়া দেওয়ান শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হননি। দৌড় শেষ করার সময় তিনি ট্র্যাকে পড়ে গিয়েছিলেন। চোটের কারণে তার পক্ষে পুরস্কার বিতরণীতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ অতিথির উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফেডারেশনের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে। বিজয়ীদের সময়মতো পদকমঞ্চে উপস্থিত রাখা আয়োজকদের দায়িত্ব হলেও এক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপনকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মনজুর মোর্শেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি খুব খারাপ হয়েছে। আসলে তৃতীয় হওয়া সুমাইয়া ব্যথা পাওয়ায় আসতে পারেননি।’
তাহলে রৌপ্যজয়ী শরীফা খাতুন কেন সময়মতো পদকমঞ্চে উপস্থিত হতে পারেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে মনজুর মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। ওই অ্যাথলেটের সংস্থার কাছে আমরা জানতে চাইবো, কেন এমন হলো।’শুধু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠেনি। প্রতিযোগিতা কাভার করতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। দুই দিন আগে প্রেসকার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অনেককে কার্ড দিতে পারেনি ফেডারেশন। ফলে প্রতিযোগিতা কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
সূত্র : জাগো নিউস ২৪