শিরোনাম
◈ চার দশকের অপেক্ষার অবসান, ২০ নভেম্বর চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন ◈ সাজেক দখলে মরিয়া দুই পক্ষ, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ◈ ২০২৭ সালের জুনে চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প, উপকৃত হবে ২০ লাখ মানুষ ◈ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভুলে ২০ লাখ পাঠ্যবই সংশোধনের উদ্যোগ, বাড়ছে ব্যয়ের শঙ্কা ◈ ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য, জাপানি কনসোর্টিয়ামের ৪ শর্তে আটকে চুক্তি! ◈ এসবিআই ব্যাংকের ৩ লাখ ৮০ হাজার নথি চুরির দাবি হ্যাকারদের, গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের শঙ্কা ◈ তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নভেম্বরে, মোদির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে যেসব ইস্যু: ইন্ডিয়া এম্পায়ারের নিবন্ধ ◈ কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা নয়ন গ্রেপ্তার, আদাবরে আরও অপকর্মের অভিযোগ ◈ পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর পরিকল্পনা, কলকাতা যেতে সময় লাগতে পারে মাত্র ৬ ঘণ্টা ◈ হোসাইনের ঘূর্ণিতে ঘায়েল ও‌য়েস্ট ইন্ডিজ, ড্র হ‌লো প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:১৯ সকাল
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাজেক দখলে মরিয়া দুই পক্ষ, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

মেঘের রাজ্য খ্যাত ‘সাজেক’ ২০০৮ সালের দিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মানুষের নজরে আসে। পরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আধুনিক রাস্তা-ঘাট ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে জনপ্রিয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে ওঠে।

বর্তমানে সাজেকে ছোট-বড় মিলে শতাধিক কটেজ রয়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি এ তিন মাস মূলত সাজেকের পর্যটন মৌসুম।

এ সময়ে কটেজ মালিকরা প্রায় ৩০ কোটি টাকার ব্যবসা করে থাকেন এবং পর্যটকরা রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়ার জন্য প্রতি দিন খরচ করেন প্রায় ২২-২৫ লাখ টাকা।

এছাড়া পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ের হরেক রকমের পণ্যের দোকান।

Advertisement

এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বছরে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য করে।

চান্দের (জিপ গাড়ি) গাড়িতে যাতায়াত, ঘোরাঘুরিতে পর্যটকরা ব্যয় করেন আরও প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

সাজেকের পর্যটন খাতের একাধিক উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সাজেক পর্যটন ব্যবসা ছাড়াও কৃষি পণ্য আদা, হলুদ এবং ফুলঝাড়ু ও বাঁশের জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর এখানে উৎপাদিত এসব মসলা, ফুলঝাড়ু ও বাঁশের ব্যবসাও হয় কয়েক কোটি টাকার।

সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং দক্ষিণে মিজোরাম রাজ্য। সাজেক শুরু থেকে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) দখলে ছিল। তবে সাজেকের ভূয়াছড়ি নামক এলাকায় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থান ছিল বেশ পোক্ত। কয়েক বছর আগে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান চালালে স্বশস্ত্র সংগঠনটি সরে যায়।

এরপর পুরো এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে চলে সশস্ত্র সংগঠন মূল ইউপিডিএফ। হোটেল-মোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত এমনকি পর্যটকদের জন্য সরবরাহ করা পানি থেকেও চাঁদা আদায় করে ইউপিডিএফ।

বেশ কয়েক মাস আগে সাজেকের ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের সশস্ত্র কমান্ডার তরুণ চাকমা ৫০ জনের একটি দল নিয়ে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র দলে যোগ দিলে পিসিজেএসএসের ক্যাডাররা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদার ভাগ বসাতে সাজেকে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে প্রায় ৭০ ভাগ এরিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন তারা। 

স্থানীয় সংবাদকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ি উপজেলায় এম এন লারমা গ্রুপের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস সংস্কার) সংস্কার গ্রুপ এক সময় দাপট দেখালেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ে।

ইউপিডিএফ তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন সাজেকের উজোবাজার এলাকায় তাদের কর্মী, সমর্থকদের (নারী-পুরুষ) নিয়ে পিসিজেএসএসকে সাজেক থেকে বিতারিত করতে অবরোধের মতো কর্মসূচির ডাক দেয়। এতে তাদের ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন মাঠে নামে। ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ পালন করে সংগঠনগুলো। 

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করলেও ২২ অক্টোবর ফের আন্দোলন শুরু করে। ২২ অক্টোবর সকালে পর্যটকরা সাজেক ছাড়ার সময় তাদের বাঁধা দেওয়া হয় এবং গুলি ছোড়া হয়। এতে সেনাবাহিনীও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। অবরোধকারীদের ইট-পাটকলের আঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর নয় সদস্য আহত হন।

এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে সড়ক ও নৌপথে অর্ধদিবস অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ নামে ইউপিডিএফের আরেকটি ছায়া সংগঠন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) রাঙামাটি জেলার সভাপতি ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা জানান, এসব ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নন। 

মূলত ইউপিডিএফই সংগঠন দুটিকে অবরোধে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে নেওয়া কর্মসূচিতে তাদের সমর্থন থাকবে এবং ২২ তারিখের ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, সাজেক ইউপিডিএফ অধুষ্যিত অঞ্চল হলেও কয়েক মাস আগে থেকে পিসিজেএসএস এ অঞ্চলটির অধিকাংশ এলাকা দখলে নেয়। মূলত সংগঠন দুটির আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদার ভাগাভাগি নিয়ে এসব ঘটনা ঘটছে। ফলে সাজেকের পর্যটন খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, সাজেকে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর যৌথবাহিনীর প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র : বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

  • সর্বশেষ