পবিত্র জমজম কূপের পানির উৎস ও কূপের ভেতরের গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আগ্রহ রয়েছে। এ রহস্য অনুসন্ধানে ১৯৭৯ সালে সৌদি আরবের একদল গবেষক ও ডুবুরি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কূপের গভীরে গিয়ে জরিপ পরিচালনা করেন। ড. ইয়াহিয়া কশাকের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরা ব্যবহার করে কূপের তলদেশ ও পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণার সময় কূপের ভেতরের গঠন, পানির স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন দিক থেকে পানির প্রবাহের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় কূপের তলদেশে থাকা পাথর ও বিভিন্ন বস্তু ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
কূপের গভীরতা ও গঠন
গবেষণায় জমজম কূপের আয়তন তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর পানি সরবরাহের বিষয়টি গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। প্রচলিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, কূপটির গভীরতা প্রায় ৩০ মিটার বা ১০০ ফুটের কাছাকাছি।
ক্যামেরা দিয়ে কূপের গভীরে পর্যবেক্ষণের সময় পানির নিচের পাথর ও কূপের দেয়ালের বিভিন্ন অংশ দেখা যায়। গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল কূপে কীভাবে পানি প্রবেশ করছে এবং পানির প্রবাহ কীভাবে অব্যাহত থাকছে, তা বোঝা।
কোথা থেকে আসে জমজমের পানি?
জরিপে কূপের তলদেশ ও আশপাশের ভূতাত্ত্বিক গঠনের বিভিন্ন ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এসব ফাটলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি কূপে প্রবেশ করে বলে গবেষণায় ধারণা পাওয়া যায়।
জমজম কূপের পানির উৎস নিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বর্ণনা থাকলেও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মূলত এর ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং পানির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্রুত পূরণ হয় কূপ
গবেষণার সময় কূপের পানির প্রবাহের হার বোঝার জন্য পানি পাম্প করে কিছুটা কমিয়ে আনার একটি পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পাম্প বন্ধ করার পর তুলনামূলক দ্রুত সময়ে কূপের পানির স্তর আবার বেড়ে যায়।
এ ধরনের পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায়, আশপাশের ভূগর্ভস্থ স্তর ও শিলার ফাটল দিয়ে জমজম কূপে নিয়মিত পানি প্রবেশ করে।
পানির খনিজ উপাদান
জমজমের পানির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর খনিজ উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় জমজমের পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে। পানির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও খনিজের মাত্রা সাধারণ পানির তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।
তবে জমজমের পানি নিয়ে বৈজ্ঞানিক কোনো দাবি করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গবেষণার ফল, নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি এবং পরীক্ষাগারের তথ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কূপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস
শত শত বছর ধরে জমজম কূপ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে বিবেচিত। কূপকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ের নানা ঐতিহাসিক ঘটনা ও বর্ণনাও প্রচলিত রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ওই গবেষণা অভিযান জমজম কূপের ভেতরের গঠন ও পানির প্রবাহ সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে আলোচিত হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে জমজমের পানি মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কূপটির পানির উৎস, ভূতাত্ত্বিক গঠন ও পানির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এখনো গবেষণা ও আগ্রহের বিষয়। সূত্র: ঢাকা এক্সপ্রেস