শিরোনাম
◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন ◈ ইউপি নির্বাচনে ইসির নতুন বিধান, জামানত বাড়ল পাঁচ গুণ ◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত

প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:২৪ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সারাদিন বরকতময় রাখবে সকালের এই ৭ কাজ

মানুষের প্রতিদিনের জীবন আসলে একেকটি নতুন সূচনা। কোরআন ও হাদিসে সকালকে বলা হয়েছে বরকতের সময়—যে সময় মানুষ যদি আল্লাহর স্মরণে, শৃঙ্খলায় ও ইতিবাচক কাজ দিয়ে শুরু করে, তার গোটা দিন হয়ে ওঠে সফল ও শান্তিময়। নবীজির (স.) জীবনে সকাল ছিল সবচেয়ে সুশৃঙ্খল সময়; তিনি এই সময়ে ইবাদত, দোয়া, কাজ ও মনন—সবকিছুকে সঠিক ভারসাম্যে রাখতেন।

১. ফজরের নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত

advertisement

রাসুল (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সে যেন পুরো রাত ইবাদত করেছে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫৭)

সকালে ফজরের পর কোরআন তিলাওয়াত করা নবীজির (স.) অন্যতম অভ্যাস ছিল। কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে, “ফজরের কোরআন তিলাওয়াতের সাক্ষী থাকে।” (সুরা ইসরা, আয়াত: ৭৮)

advertisement

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে, ফজরের সময় শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসে, যা মানসিক সতেজতা ও মনোযোগ বাড়ায়। ভোরে ধ্যান, কোরআন তিলাওয়াত বা পাঠ মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত রাখে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল–এর ২০১৮ সালের গবেষণায় বলা হয়েছে যে, সকালবেলার আধ্যাত্মিক অনুশীলন মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ভারসাম্য বজায় রাখে এবং উদ্বেগ কমায়।

২. ফজরের পর আল্লাহর জিকির

advertisement

নবীজির (স.) অভ্যাস ছিল ফজরের নামাজের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করা।

তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করে, এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তার জন্য একটি হজ ও ওমরার পূর্ণ সওয়াব রয়েছে।” (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)

এই সময়টিতে “আস্তাগফিরুল্লাহ”, “সুবহানাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার” ইত্যাদি জিকির করলে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে।

মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এই ধরনের পুনরাবৃত্ত ধ্যানমূলক জিকির কর্টিসল হরমোন কমিয়ে দেয়, যা মানসিক চাপ হ্রাস করে।

৩. সকালেই রিজিকের জন্য বের হওয়া

রাসুল (স.) বলেছেন, “হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য সকালে বরকত দাও।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৩৬)

তিনি নিজেও সকাল সকাল কাজ শুরু করতেন। ব্যবসা, সফর বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব—সবকিছুই সকালেই শুরু করতেন।

সকালে শরীরের সব অঙ্গের হরমোন সক্রিয় থাকে, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং মনোযোগ তীক্ষ্ণ করে।

৪. পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা

নবী (স.) সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ওজু করতেন, মুখ পরিষ্কার করতেন এবং মিসওয়াক ব্যবহার করতেন। তিনি বলেছেন, “মিসওয়াক মুখের পরিচ্ছন্নতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৯)

সকালে দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার রাখা মুখগহ্বরের ব্যাকটেরিয়া ৮০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়, যা হজম ও মানসিক সতেজতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। 

৫. পরিবারকে সালাম ও দোয়া

নবী (স.) সকালবেলা পরিবারের সদস্যদের সালাম দিতেন ও তাদের জন্য দোয়া করতেন।

তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে সালাম দেয়, তার ও তার পরিবারের জন্য বরকত হয়।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৬৯৮)

মনোবিজ্ঞান বলে, সকালে পারিবারিক যোগাযোগ ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, সকালে পারিবারিক শুভেচ্ছা বিনিময় করলে দিনের মধ্যে মানসিক স্থিতি ২৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

৬. হালকা ব্যায়াম ও শরীরচর্চা

নবী (স.) শরীরচর্চাকে পছন্দ করতেন। সাহাবিরা সকালবেলায় দৌড়ানো, সাঁতার ও তিরন্দাজি অনুশীলন করতেন।

তিনি বলেছেন, “বলবান মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৬৪)

৭. সকালবেলা সদকা বা কল্যাণমূলক কাজ

নবী (স.) বলেছেন—

“প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রত্যেক অঙ্গের জন্য সদকা করা কর্তব্য।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০০৯)

অর্থাৎ, সকালে একটি সৎকাজ—হোক তা দান, হাসি বা সাহায্য—দিনটিকে বরকতময় করে তোলে।

সকালে দান বা ইতিবাচক কাজ করলে ডোপামিন বৃদ্ধি পায়, যা দিনব্যাপী সুখানুভূতি ধরে রাখে।

সকালের সময়কে ইসলাম শুধু ইবাদতের নয়, বরং জীবনের পুনর্নবীকরণের সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফজর, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, তাওয়াক্কুল, পরিচ্ছন্নতা, কাজ ও সদকা—এসবের সমন্বয়ে সকাল হয়ে ওঠে বরকতময়, উৎপাদনশীল ও মানসিকভাবে দৃঢ়। সূত্র: প্রথম আলো   

  • সর্বশেষ