আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাকেরি কানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে ইরান আর সন্তুষ্ট হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব পদক্ষেপগুলো ইরানকে নিজের চোখে দেখতে হবে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবে দেখা গেলে নতুন অধ্যায় শুরুর পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আলী বাকেরি কানি বলেন, ইরান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণে তেহরানে অনুষ্ঠিত চার দেশের বৈঠক ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রাশিয়া ও চীনও এই উদ্যোগের বিষয়ে একমত হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি রাশিয়া ও চীন উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ওই অঞ্চলের দেশগুলোরও সমর্থন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বাকেরি কানি বলেন, গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র চার দফা কূটনৈতিক উদ্যোগকে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাহত করেছে।
তিনি বলেন, ১৪০৪ ফারসি সনের বসন্তে ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছিল, তখন ওয়াশিংটন দ্বিতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শুরু করে। একই বছরের শরৎকালে আলোচনা গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে চলার সময় তারা বেআইনিভাবে স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া চালু করে। এরপর ওই বছরের শীতকালে ইরানের পক্ষ থেকে কার্যকরভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শুরু করে।
সবশেষে তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র সেই সমঝোতাকে তিন সপ্তাহও টিকতে দেয়নি। প্রথম দিন থেকেই তারা একাধিকবার সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। বাকেরি কানি জোর দিয়ে বলেন, নতুন কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশের আগে প্রতিপক্ষের কাছে নিজেদের সাত দফা বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানানো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ন্যায্য অধিকার।