এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে: আবারও ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ভারত। প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে ঝাড়খণ্ডে টানা ১৭ দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার আন্দোলনকারীরা রাজ্য বিধানসভা ঘেরাও করতে গেলে রাঁচিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। তবে জলকামানের সামনেও অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তাদের নাচতে দেখা যায়।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মে সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
সোমবার সকালে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাজারো শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে এগিয়ে যান।
ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতো আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঁচির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড বসায় প্রশাসন। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য।
শহরের বেশির ভাগ স্কুলও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। রাঁচিতে প্রবেশের বিভিন্ন পথে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরেও বিক্ষোভ দেখিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।
আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠক করা হলেও এখনো সমাধান হয়নি। সরকারের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিল করতে চেয়েছে সরকার। পাশাপাশি জেসিএসসি ও জেপিএসসির দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের দাবিতেও অনড় রয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে রবীন্দ্র পাসওয়ান জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বর্তমানে ছয়জন আন্দোলনকারী অনশনে রয়েছেন।
এর আগে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে গত রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেন। সিআইডির সমন জারির পর তাদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।