মনিরুল ইসলাম: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এ বছর গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একইভাবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবারের ফলাফলকে তুলনামূলক খারাপ বলা হচ্ছে—এমন মন্তব্যের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনি খারাপ রেজাল্ট বলছেন কেন, রেজাল্ট তো সুন্দর হয়েছে।’
পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যতটুকু পড়াশোনা করবে এবং পরীক্ষায় যতটুকু সঠিক উত্তর দেবে, তাকে সে অনুযায়ীই নম্বর দেওয়া উচিত। কেউ না পড়লে তাকে বাড়তি নম্বর দিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা এবার কঠোর ছিলেন কি না এবং এর প্রভাব ফলাফলে পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও প্রস্তুতির ভিত্তিতেই তার প্রাপ্য নম্বর দেওয়া উচিত। নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে ফলাফল ভালো দেখানোর চেয়ে শিক্ষার্থীর প্রকৃত যোগ্যতা অনুযায়ী ফলাফল হওয়াকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
অতীতে শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের সময় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, ‘আমি তখন ছিলাম না। আপনিই বললেন বলে দেওয়া হয়েছিল শিক্ষকদেরকে। জাতি জানল আপনার কাছ থেকে যে শিক্ষকদের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমি জানতাম না।’
এবারের ফলাফলে কোনো কোনো শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো বোর্ডের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র করা হয়নি। একই মানদণ্ডে সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিয়েও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, সব বোর্ডের শিক্ষার্থীদের একই মানদণ্ডে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো বোর্ডের জন্য পৃথক প্রশ্ন করা হয়নি।
এদিকে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পুনঃপরীক্ষণে কোথাও কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ফলাফলে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য শতাংশ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যা গত বছর ছিল ৪৮টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৬টিতে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮৬টি।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার না থাকলেও এবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফলাফলের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও প্রস্তুতিই প্রতিফলিত হওয়া উচিত। একজন শিক্ষার্থী যতটুকু শিখেছে এবং পরীক্ষায় যতটুকু সঠিকভাবে তা উপস্থাপন করতে পেরেছে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হবে।