শিরোনাম
◈ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮৪৪ ◈ পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা শুধু ‘রিমাইন্ডার’: ডিবি প্রধান ◈ ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বে‌শির ভাগ ব্রা‌জি‌লিয়ান‌দের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ নেই ◈ শর্তসাপেক্ষে দুবাই কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর আহমেদ, পাসপোর্ট জব্দের কারণে আমিরাত ছাড়তে পারবেন না ◈ দেশজুড়ে কেন সতর্কতা জারি, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ স্বামীর ছুরিকাঘাতে রাজধানীর কাঁঠালবাগানে স্ত্রী-শাশুড়ি নিহত ◈ সরকারি অর্থায়নের নির্ভরতা কমাতে বেসরকারি অংশীদারত্বে যাচ্ছে পর্যটনের ৫৩ হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বার ◈ বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ কত? ভাই সম্পত্তি না দিলে বোন কী করবেন? জানালেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

প্রকাশিত : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৪৯ দুপুর
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউরোপের খরায় উন্মোচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস, দানিয়ুবে ভেসে উঠলো শতাধিক ধ্বংসাবশেষ

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র খরার কারণে মহাদেশটির অন্যতম প্রধান নদী দানিয়ুব শুকিয়ে নজিরবিহীন নিম্নস্তরে নেমে গেছে। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সার্বিয়ার প্রাহোভো অঞ্চলের নদীগর্ভ থেকে ভেসে উঠেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একাধিক নাৎসি জার্মান যুদ্ধজাহাজ। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট। ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক জানান, ১৯৪৪ সালে জার্মান বাহিনী পিছু হটার সময় ধ্বংস হওয়া অন্তত ২০০টি যুদ্ধজাহাজ, পণ্যবাহী ভেসেল ও বার্জ এই নদীগর্ভে ডুবে ছিল। খরার কারণে এখন সেগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। 

এছাড়া ক্রোয়েশিয়ার ওপাতোভাক এলাকায় ১৯৩৭ সালের হাঙ্গেরীয় পণ্যবাহী জাহাজ ‘ফুলটন’-এর ধ্বংসাবশেষও ভেসে উঠেছে। দানিয়ুব নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পুরো ইউরোপজুড়ে পর্যটন, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে নদীর পানির স্তর রেকর্ড কমে ২৩ সেন্টিমিটারে নেমে এসেছে। এটি ২০১৮ সালের সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরের (৩৩ সেন্টিমিটার) চেয়েও অনেক কম। পানি কম থাকায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রমোদতরীগুলো মূল শহর থেকে দূরে নোঙর করতে বাধ্য হচ্ছে।

পানির সংকট মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এই অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে। হাঙ্গেরির পাক্স পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রোমানিয়ার নিউক্লিয়ারইলেক্ট্রিকা কেন্দ্রের রিয়্যাক্টর ঠান্ডা করতে দানিয়ুবের পানি ব্যবহৃত হয়।

নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উভয় দেশই তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইলিয়ে বোলোজান আগস্ট মাস জুড়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং ইউক্রেন, গ্রিস ও বুলগেরিয়া থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কথা জানিয়েছেন। এদিকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাজিয়ের শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে জানিয়েছেন, পানির স্তর আরও নিচে নামলে ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাক্স বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

দাবদাহের কারণে বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। আগামী কয়েক সপ্তাহে নদীর পানি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় ইউরোপের জ্বালানি ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়