শিরোনাম
◈ সৌদির সঙ্গে আলোচনা সফল হলে হজের ভাড়া আরও কমবে: আফরোজা খানম ◈ গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: পেট্রোবাংলা ◈ প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান নিয়ে সুখবর ◈ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব তারেক রহমানকে দিলো বিএনপি ◈ র‍্যাবের ‘আয়নাঘরে’ ৭ ‘ডেথ সেল’, মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য (ভিডিও) ◈ সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কড়া সতর্কতা ◈ কারাতে দক্ষতার প্রদর্শন, কাঠের তক্তা ভাঙলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ভিডিও) ◈ দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশি হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নয়, তারা শরণার্থী: শুভেন্দু ◈ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ, আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী

প্রকাশিত : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৩৭ রাত
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

কেন আবারও উত্তপ্ত স্পেন-মরক্কো সীমান্তের সেউতা?

মরক্কো ও উত্তর আফ্রিকার ক্ষুদ্র ভূখণ্ড সেউতার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। গত কয়েকদিনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ স্পেন নিয়ন্ত্রিত সেউতায় ঢুকে পড়েছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। সবমিলিয়ে সেখানে দেখা দিয়েছে এক মানবিক সংকট। 

উত্তর আফ্রিকায় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ধরে সেউতার অবস্থান। এই দ্বীপের ঠিক ২৫০ মাইল পূর্বে রয়েছে স্পেনের আরেকটি ভূখণ্ড, নাম মেলিলা। দুটি ভূখণ্ডেই রয়েছে ইউরোপের সঙ্গে আফ্রিকার সীমান্ত।

ইতিহাস বলে, ১৫৮০ সাল থেকে স্পেনের দখলে সেউতা। এখানে মূলত খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের বাস। স্পেন ও মরক্কো থেকে অনেক দিনমজুর সেখানে গিয়ে বসবাস করছেন। তবে সেউতা ও মেলিলাকে আজও স্পেনের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি মরক্কো। তারা দ্বীপ দুটিকে স্পেনের ‘দখলি ভূখণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে।

সেউতা নিয়ে ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব
অর্থনৈতিক সুযোগ কিংবা নিজ দেশে সহিংসতা থেকে বাঁচতে ইউরোপমুখী মানুষের জন্য স্পেন একটি প্রবেশদ্বার। মরক্কোসহ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যারা স্পেনে পৌঁছার চেষ্টা করেন, তাদের অন্যতম গন্তব্য সেউতা অথবা মেলিলা। তাই এই দুই অঞ্চলের সীমান্ত সুদৃঢ় ও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে স্পেন। 

দেশটির সরকার বলছে, শুক্রবার পর্যন্ত তারা ৩৭ হাজারের বেশি অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে। তবে বহু মানুষ রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। তাদের কেউ কেউ আবার স্পেনে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। 

সেউতায় ঢুকতে মরক্কোর ফিনিদেক শহর থেকে অনেকে ৫ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়েছেন। আবার অনেকে তুলনামূলক কাছের শহর বেলিউনেশ থেকে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন।

এর আগে, ২০২২ সালে মেলিলা সীমান্ত দিয়ে প্রায় ২ হাজার মরোক্কান স্পেনে ঢোকার চেষ্টা করলে ২৩ জন প্রাণ হারান। তারও আগে ২০১৪ সালে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে ও জলসীমা অতিক্রম করে সেউতায় ঢোকার সময় ১৪ জনের মৃত্যু হয়।

তবে গত কয়েকদিনে এত মানুষ কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় ঢুকল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। মরক্কো সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু বলেনি। সীমান্ত পারাপার বন্ধে তারা কতটা চেষ্টা করেছে তাও স্পষ্ট নয়। 

২০২১ সালের মে মাসেও সেউতা ও মেলিলা সীমান্তে বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটে। তখন পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী আন্দোলন ‘পলিসারিও ফ্রন্ট’ প্রধানকে কোভিড-১৯ চিকিৎসার অনুমতি দেয় স্পেন। আর এ নিয়ে মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। কারণ, মরক্কো ও পলিসারিও ফ্রন্ট- উভয়েই পশ্চিম সাহারার ওপর তাদের অধিকার দাবি করে। অঞ্চলটি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত স্পেনের অধীনে ছিল। পরে ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটি মরক্কো ও মৌরিতানিয়ার হাতে তুলে দেয়।

সেই কূটনৈতিক সংকট ২০২২ সালে নিরসন হয়, যখন মাদ্রিদ দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ নীতি বদলে পশ্চিম সাহারার জন্য মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে স্পেনের এই পদক্ষেপ পার্শ্ববর্তী দেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব তৈরি করে। কারণ আলজেরিয়া পলিসারিও গ্রুপকে সমর্থন করে।

গত ২০ জুলাই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আলজেরিয়া সফর করেন, যা ছিল চার বছরের মধ্যে কোনো স্প্যানিশ সরকারপ্রধানের প্রথম দেশটি সফর। এর মাধ্যমে আলজেরিয়ার সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। 

পেদ্রো সানচেজ অবশ্য আকস্মিক এই অনুপ্রবেশের জন্য মানবপাচারকারীদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রপথে আসা অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠানো যাবে না বলে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি যে রায় দিয়েছে, তারই সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই সংকট তৈরি করেছে।’

তবে ইতালিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল স্টাডিজের গবেষক মাত্তেও ভিল্লা মনে করেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনীতি থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে যা ঘটেছিল, সাম্প্রতিক ঘটনা তারই একটা বড় রূপ। যেখানে মাসে কয়েকশ লোক আসার কথা, সেখানে রাতারাতি ৫০ হাজার মানুষ এমনি এমনি চলে আসতে পারে না! পেদ্রো সানচেজের আলজেরিয়া সফর মরক্কো আদতে পছন্দ করেনি।’

মাত্তেও ভিল্লা ইঙ্গিত দেন, ওই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব জাহির করার কৌশল হিসেবে মরক্কো সীমান্ত খুলে দিতে পারে। কারণ তারা জানে, এটি ইউরোপে চরম প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। ‘ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজেদের ভেতরের কোন্দল দেখতে মরক্কো দারুণ পছন্দ করে’- বলেন তিনি।

সীমান্ত অতিক্রমের এই ঘটনাকে পেদ্রো সানচেজ ‘স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতায়’ হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। বিশৃঙ্খলা রোধ ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেউতা-মেলিলায় সশস্ত্র বাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির ৫ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। তারা কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা ও মরক্কো থেকে এসেছেন, স্পেনের কৃষি, পর্যটন ও সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডানপন্থি অনেক নেতা মনে করেন, অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার বিষয়ে স্পেনের উদার নীতিই সেউতা-সংকট ডেকে এনেছে। ইতালি সরকার এরইমধ্যে স্পেনকে শেনজেন থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে (যদিও সেউতা ও মেলিলা শেনজেন ভুক্ত নয়)। সীমান্ত সিল করে দিয়েছে ফ্রান্স।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়