যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ঐতিহ্যবাহী পারফর্মিং আর্টস স্কুল ‘ইন্টারলোকেন সেন্টার ফর দ্য আর্টস’-এ গত কয়েক দশক ধরে চলা যৌন নির্যাতনের এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১৯৫০-এর দশক থেকে ২০১০-এর দশক পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৭ জন শিক্ষক ও কর্মীর বিরুদ্ধে ৭০টি যৌন নিপীড়ন ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এই তালিকায় কুখ্যাত প্রয়াত ধনকুবের জেফরি এপস্টাইনের নামও সরাসরি জড়িত রয়েছে। তিনি ওই স্কুলের একজন বড় অঙ্কের দাতা ছিলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন এই ফাইন আর্টস স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ‘সংঘভি ল অফিস’ নামের একটি আইন সংস্থাকে নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সম্পর্কিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। তদন্তে প্রাপ্ত ৯৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কর্মী ও শিক্ষকের মাধ্যমে মানসিক ব্ল্যাকমেইলিং, অশালীন যৌন স্পর্শ এবং সরাসরি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
দুজন প্রাক্তন ছাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, এপস্টাইন নিজেও তাদের সাথে যৌন উসকানিমূলক আচরণ করেছিলেন। যার মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে নিউইয়র্কে নিজের কাছে এনে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করেন এবং অন্যজনকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। স্কুলটির প্রেসিডেন্ট ট্রে ডেভি এবং বোর্ড চেয়ারম্যান ব্যারেট রলিন্স যৌথ বার্তায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের কাছে গভীর ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
তারা জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমানে কেউ আর এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নেই এবং তাদের এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে মারা গেছেন। অভিযুক্তদের নামের তালিকা মিশিগানের গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালে ওই স্কুলে ক্যাম্পিং করা এপস্টাইন ১৯৯০ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রায় চার লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে এপস্টাইন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার নামের লজটির নাম পরিবর্তন করা হয় এবং সম্প্রতি ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষালয়টিতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।