চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশেষ অর্থনৈতিক ও মুদ্রা অঞ্চল ইউরোজোন। তবে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এবং নতুন করে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
ইইউর অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী ২১ দেশের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
একই সময়ে আগের বছরের তুলনায় ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বাজারের ০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। পাশাপাশি আগের কিছু প্রবৃদ্ধির হিসাবও ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় অর্থনীতির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির অর্থনীতি ০ দশমিক ২ শতাংশ করে বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোজোনের সবচেয়ে ভালো পারফরমার স্পেনের অর্থনীতি ০ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ, যা প্রত্যাশার দ্বিগুণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউরোপে এআই খাতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে পারিবারিক ভোগব্যয়ও আশঙ্কার তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। জার্মানি প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয়ও ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বেকারত্ব ও শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা
ইউরোজোনে বেকারত্বের হারও জুন মাসে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল, যা শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শিল্প ও সেবা খাতের আস্থার সূচকও প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বেড়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পেছনে কিছু সাময়িক কারণও রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে।
বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা মূলত দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ কম্পানিগুলোর কারণে হয়েছে। ছোট অর্থনীতি হলেও আয়ারল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে বড় প্রভাব ফেলেছে।
কমার্জব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়র্গ ক্রেমার রয়টার্সকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরো তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হতে আরো সময় লাগতে পারে। এতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে উচ্চ জ্বালানিমূল্য, অপরিশোধিত জ্বালানিপণ্যের সংকট, জ্বালানির বাড়তি খরচ এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হারও ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো, তবুও বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানিসংকট অব্যাহত থাকলে ইউরোজোনের অর্থনীতি আগামী মাসগুলোতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।