শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২৬, ১২:১৭ রাত
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভোট গণনায় সতর্ক থাকার বার্তা, এজেন্টদের কড়া নির্দেশ মমতার

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক সেই সময় দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-এর বেশি আসনে জয় পেয়ে আবারও সরকার গঠন করবে।

একইসঙ্গে ভোটগণনার দিন কীভাবে কাজ করতে হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশও তুলে ধরেন তিনি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

advertisement

শনিবার (২ মে) বিকেলে কালীঘাট থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হন তৃণমূলের বিভিন্ন কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টরা। এই বৈঠককে কার্যত নির্বাচনের আগে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দল জয়ের ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

তার দাবি, তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে। তবে এই আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি তিনি সতর্কতাও জারি করেন। তার কথায়, ভোট গণনার দিন কাউকে ঢিলেঢালা মনোভাব দেখালে চলবে না। প্রত্যেক এজেন্টকে ভোর থেকেই গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকতে হবে। দলের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ কেন্দ্র ছেড়ে বেরোতে পারবেন না।

advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ভোট চলাকালীন যেসব কর্মী বা সমর্থক আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান ভুলে যাওয়া হবে না। ফল ঘোষণার পর তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, সংগঠনকে ধরে রাখতে কর্মীদের মনোবল বাড়ানোই এই বার্তার অন্যতম উদ্দেশ্য। গণনার দিন কী কী বিষয়ে নজর রাখতে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেন তিনি।

advertisement

তিনি বলেন, কোথাও যদি ২০০ থেকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি এগিয়ে আছে বলে মনে হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। এই নির্দেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা, কারণ কম ব্যবধানের আসনগুলোই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

বৈঠকে বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও মন্তব্য করেন মমতা। তিনি জানান, এই ধরনের সমীক্ষার উপর নির্ভর করার কোনো কারণ নেই। তার মতে, এগুলো অনেক সময় বাজার প্রভাবিত করার জন্য ব্যবহার করা হয় এবং বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে এর মিল নাও থাকতে পারে। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি কর্মীদের এসব উপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

এই বৈঠকে নিজের বক্তব্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও গণনার দিন সতর্ক থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন, ফলাফলের সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার ছেড়ে বেরোনো যাবে না। কোথাও যদি এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে দলের উচ্চপর্যায়ে জানাতে হবে।

অভিষেক আরও জানান, পোস্টাল ব্যালট গণনার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এই ভোটের ফলাফলই ব্যবধান তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ইভিএম খোলার সময় তারিখ ও তথ্য যাচাই করার উপরও জোর দেন তিনি।

এছাড়া তিনি বলেন, যেখানে ব্যবধান কম থাকবে, সেখানে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। ইভিএমের চার্জ এবং অবস্থাও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। কোনো অসঙ্গতি নজরে এলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

একদিকে তৃণমূল তাদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে বিজেপিও সরকার গঠনের দাবি করছে। এই অবস্থায় গণনার দিন প্রতিটি ধাপকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগের শেষ মুহূর্তে তৃণমূল নেতৃত্বের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা সংগঠনকে শক্তভাবে ধরে রাখতে চাইছে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই গণনার প্রক্রিয়ায় শৈথিল্য দেখাতে রাজি নয়।

 

  • সর্বশেষ