শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫৪ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রাকৃতিক সম্পদ ছাড়াই কীভাবে ধনী হয়ে উঠেছে ইসরায়েল?

ভৌগোলিক আয়তনে ছোট এবং উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদবিহীন দেশ ইসরায়েল, তবুও আজ বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে অন্যতম নিয়ন্ত্রক। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেও কীভাবে ইসরায়েল এমন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, তা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ইসরায়েলের অর্থনৈতিক বিবর্তনের সূচনা হয় সম্পদের সীমাবদ্ধতা থেকেই। অন্য দেশগুলোর মতো প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর না করে দেশটি ‘মানব পুঁজি’ বা দক্ষ জনশক্তিকে মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে। 'প্রয়োজনই উদ্ভাবনের জননী' এই দর্শনকে কেন্দ্র করে তারা একটি 'উচ্চ-মূল্য সংযোজনকারী' বা হাই-ভ্যালু অ্যাডেড অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে উদ্ভাবনই প্রতিযোগিতার প্রধান হাতিয়ার।

advertisement

বর্তমানে ইসরায়েল তার জিডিপির প্রায় ৬.৩৫ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করে, যা উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই খাতের ৯১ শতাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিরল ঘটনা। ফলে এই খাতে সরকারের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন মাত্র ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার-চালিত এই উদ্ভাবন মডেল অত্যন্ত গতিশীল হলেও এটি একটি কাঠামোগত ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে। যার ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন কম হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী এবং আমূল পরিবর্তনকারী গবেষণার পথ সংকুচিত হতে পারে, কারণ বেসরকারি খাত সব সময় দ্রুত মুনাফা পাওয়া যায় এমন প্রজেক্ট খুঁজবে। এর ফলে ইসরায়েলি অর্থনীতি বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সামনে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে মন্দা দেখা দিলে বিকল্প অর্থায়নের অভাবে এসব উদ্ভাবন কেন্দ্রগুলো বড় বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।

advertisement

বর্তমানে ইসরায়েলের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হাই-টেক বা উচ্চ-প্রযুক্তি খাত। ২০২৪ সালের সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১৭.৩ শতাংশ, যা ১৯৯৫ সালে ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। অপরদিকে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির মোট রফতানির ৫৭.২ শতাংশই এসেছে হাই-টেক খাত থেকে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০২৫ সালের মোট বিনিয়োগের প্রায় ৩৮ শতাংশ।  

তবে, এই উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি বড় ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে— দ্বিমুখী অর্থনীতি বা ডুয়াল ইকোনমি। হাই-টেক খাতের উৎপাদনশীলতা দেশের সাধারণ অর্থনৈতিক খাতের তুলনায় ২.২ গুণ বেশি। ফলে মেধা কেবল একমুখীভাবে প্রবাহিত হচ্ছে, যা অন্যান্য খাতের ডিজিটালাইজেশনকে বাধাগ্রস্ত করছে। কোনো কারণে যদি হাই-টেক খাতের গতি কমে যায়, তবে পিছিয়ে থাকা সাধারণ খাতগুলোর পক্ষে পুরো অর্থনীতির বোঝা বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। 

advertisement

ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি বড় উৎস হলো তাদের প্রতিরক্ষা খাত। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প কেবল সামরিক প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হয় না, বরং এটি তাদের অর্থনীতির শক্তিশালী রফতানি ইঞ্জিন। ২০২৩ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা রফতানি ১৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিট, যেমন 'ইউনিট ৮২০০'-কে বাণিজ্যিক সাইবার সিকিউরিটি এবং এআই খাতের জন্য প্রধান ট্যালেন্ট পাইপলাইন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সামরিক অভিজ্ঞতাই এনভিডিয়া বা গুগলের মতো বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্টদের ইসরায়েলে বড় গবেষণা কেন্দ্র খুলতে আকৃষ্ট করছে। 

তবে ২০২২ সালের পর থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণের চাপ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ঋণের বোঝা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা একটি 'দুষ্টচক্র' তৈরি করতে পারে, যেখানে বিশাল ঋণভার মেটাতে গিয়ে বেসামরিক খাতের জন্য বরাদ্দ সংকুচিত হয়ে পড়বে।

বর্তমানে ইসরায়েলি অর্থনীতি একটি গভীর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যাকে বিশ্লেষকরা 'ঝুঁকির নতুন মূল্যায়ন'বলছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ২০২৫ সালে হাই-টেক খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি কমে ১.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে আগে এই হার ছিল ৬ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দায়িত্ব পালনের কারণে দক্ষ কর্মীবাহিনী কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতও উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া, সার্বভৌম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রেডিট রেটিং কমে যাওয়ায় মেধাপাচারের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। প্রায় ২ শতাংশ হাই-টেক কর্মী ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদে দেশত্যাগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এখন দেশটির জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগই আসে দেশের বাইরে থেকে।

'স্টার্টআপ নেশন' হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও ইসরায়েল এখন একটি পূর্ণাঙ্গ 'স্কেল-আপ নেশন' হিসেবে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জের মুখে। তাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি এখন আর কেবল উদ্ভাবন নয়, বরং তা নির্ভর করছে সামরিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরে পাওয়ার ওপর।

সূত্র: যমুনা টিভি

  • সর্বশেষ