যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবরোধে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে কিউবা। এক মাসের জন্য বিমানের জ্বালানি সরবরাহ স্থগিত করায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশটির আকাশপথ। চিকিৎসাসহ স্কুলের সময় ও পরিবহন পরিষেবা কমিয়ে আনা হচ্ছে। খবর আল-জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিন বলেছে, হাভানার জ্বালানি পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ দেশটিকে কঠোর পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। আলাদা এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার জনগণের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সময় সোমবার কিউবা সরকার আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে জানায়, আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে বিমানের জ্বালানি আর পাওয়া যাবে না।
কিউবা দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল। ডিসেম্বরে কারাকাসের ট্যাংকারগুলোতে মার্কিন অবরোধ আরোপ এবং জানুয়ারির শুরুতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
নোটিস টু এভিয়েশন (নোট্যাম) এর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি চলবে আগামী ১১ মার্চ পর্যন্ত। এরই মধ্যে দেশটিতে বিমান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে কানাডার সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডা।
সম্প্রতি কিউবায় তেল পাঠানো দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারির পর মেক্সিকোও দেশটিতে অপরিশোধিত তেল পাঠানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। এতে দেশটির অবস্থা আরও খাপার পর্যায়ে পৌঁছায়। সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসহ স্কুলের সময় এবং পরিবহন পরিষেবা সংকুচিত করার ঘোষণা দিয়েছে কিউবা সরকার।
এমতাবস্থায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, কিউবায় পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ শুরু করার উপায় খোঁজা হচ্ছে। তবে কিউবার রাজধানী হাভানায় খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ রাখার কথা জানিয়েছে দেশটি।
শেইনবাউম জানিয়েছেন, রোববার ৮শ টনের বেশি মানবিক সহায়তা নিয়ে দুটি জাহাজ মেক্সিকো থেকে কিউবার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।