কুমিল্লা–৪ আসনে ঋণখেলাপীর দায়ে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থি বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ‘বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন’—নির্বাচন কমিশনে এমন অভিযোগে আপিল করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হাসনাত আবদুল্লাহ।
আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী। এরপর হাইকোর্ট রিট এবং সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করলেও সেটিও ১ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এর ফলে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এতে ভোটের মাঠে অনেকটাই ‘নির্ভার’ হন হাসনাত আবদুল্লাহ। কারণ, তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো ‘হেভিওয়েট’ কোনো প্রার্থী ছিল না বিএনপির প্রার্থী ছাড়া। এমন পরিস্থিতিতে জোটের কারণে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি।
এরপর গতকাল সোমবার গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে বিতর্কিত বক্তব্য দেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। সেখানে তিনি বলেন, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’ তাঁর এমন বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে বহিষ্কার করে বিএনপি।