ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের উল্লা গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে নির্বাচনী আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের চারজন সমর্থক আহত হন। আহতদের দাবি, সকালে তারা গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিযোগে করে ৮-১০ জন ব্যক্তি এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তারা আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে সংঘর্ষের আগের রাতে উল্লা গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থকরা তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। তারা অভিযোগ বলেন, কাপ-পিরিচ প্রতীকে ভোট না দিলে হিন্দু পাড়ার ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, সকালে নির্বাচনী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে উল্লা গ্রামে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে ওই এলাকা আইনশৃংখলা রক্ষাকারীবাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।