নিজের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক অবস্থার বিবরণ তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্ট দিয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার সম্পদ ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন। সেসময় তিনি জানান- ঢাকার শাহীনবাগে একটি এবং দনিয়ায় বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আরেকটি ফ্ল্যাট তার মালিকানায় আছে। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী দু’জনেই ময়মনসিংহে একটি করে অ্যাপার্টমেন্টের মালিক।
রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে একটিমাত্র হিসাব থাকার তথ্য দিয়ে প্রেস সচিব জানান, “ওই হিসাবে জমা ছিল ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এই অর্থের একটি বড় অংশ ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে পাওয়া গ্র্যাচুইটি, যেখানে আমি ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কাজ করেছি। এছাড়া আমার নিজ গ্রাম মাগুরায় ৪০ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে।”
২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান বার্তাসংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়।
নির্বাচনের দুই দিন আগে দেওয়া এ পোস্টে তিনি লেখেন, “আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) হয়তো আমার শেষ কর্মদিবস। এই সরকারি দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমি জানাচ্ছি যে, আমাদের সম্পত্তিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। আমি এখনও তিনটি ফ্ল্যাটের মালিক, আমার স্ত্রী একটি ফ্ল্যাটের মালিকই আছেন এবং আগের মতোই একই জমির মালিকানা আমার রয়েছে।”
ব্যাংকে জমা স্থিতিতে পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি লেখেন, “আমার ব্যাংকে জমা অর্থে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। আমার এখনও একটি মাত্র ব্যাংক হিসাবই রয়েছে, যেখানে বর্তমানে জমা আছে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৯ লাখ টাকা বেড়েছে।”
এর কারণ ব্যাখ্যায় প্রেস সচিব বলেন, “এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো- আমার শ্যালক আমার কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে ৭ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার বড় ভাই রোজায় দরিদ্র গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণের জন্য আড়াই হাজার ডলার পাঠিয়েছেন।”
পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার আর্থিক লেনদেন ও অবস্থার যেকোনও ধরনের যাচাই-বাছাই আমি স্বাগত জানাই।”
রসিকতা করে তিনি আরও লেখেন, “হ্যাঁ, আমার নকল বারবেরি মাফলারটি এখনও আমার কাছেই আছে।”