উনিশ শতকের শেষের দিক থেকে চিকিৎসকেরা মাঝেমধ্যে এমন কিছু অদ্ভুত রোগীর কথা বলতেন, যারা এক ফোঁটা মদ পান না করেও খাবার খাওয়ার পর মাতাল হয়ে যেতেন। অটোব্রুয়ারি সিনড্রোম (এবিএস) নামে পরিচিত এই বিরল ও বিরক্তিকর শারীরিক অবস্থার জন্য গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে অন্ত্রের অতিরিক্ত ছত্রাক বা ফাঙ্গাসকে দায়ী করে আসছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, ছত্রাক শর্করাজাতীয় খাবারকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহলে রূপান্তর করে।
তবে ২০১৯ সালের একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্রে প্রথমবার দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে অ্যালকোহল উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়াও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
সম্প্রতি অটোব্রুয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের ওপর পরিচালিত এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে, এই অবস্থার প্রধান হোতা আসলে ব্যাকটেরিয়া। নেচার মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে সম্প্রতি প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদন রোগীদের অন্ত্রের অণুজীবের অ্যালকোহল বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে নতুন চিকিৎসার পথ দেখাতে পারে আশা করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ের ক্যাপিটাল ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক্সের মাইক্রোবায়োলজিস্ট জিং ইউয়ান জানান, এই গবেষণাটি ‘ছত্রাক তত্ত্ব’ বাদ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হাজির করেছে।
তাঁর মতে, গবেষকেরা দেখিয়েছেন, এই অবস্থা মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত ইথানল ফারমেন্টেশনের কারণেই ঘটে।
অটোব্রুয়ারি সিনড্রোম সম্পর্কে যা কিছু জানা গেছে, তার বেশির ভাগই বিচ্ছিন্ন ঘটনা থেকে পাওয়া। এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার পর মাতাল হওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।
উদাহরণ হিসেবে, একজন তরুণী ডায়াবেটিস পরীক্ষার সময় গ্লুকোজ খাওয়ার পর আর হাঁটতে পারছিলেন না। এ রোগের কারণে রোগীরা মারাত্মক সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। যেমন—দিনের বেলা মাতাল থাকার অপবাদে চাকরি হারানো।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান ডিয়েগোর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং এই গবেষণার প্রধান বের্ন্ড শ্নাবল বলেন, এই রোগ পরিবারগুলোর জন্য ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা।
রোগীরা যখন জোর দিয়ে বলেন, তাঁরা মদ্যপান করেননি, তখন চিকিৎসকেরাও তাঁদের বিশ্বাস করতে চান না। যখন কোনো চিকিৎসক কড়া নজরদারিতে গ্লুকোজ খাওয়ানোর পর ব্রেথালাইজার বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই সিনড্রোম নিশ্চিত করেন, তখন সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পাশাপাশি কম শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, অ্যালকোহল উৎপাদনকারী অণুজীবগুলোর খাদ্যের জোগান বন্ধ করা।
তবে এতসব প্রচেষ্টার পরেও রোগীরা বছরের পর বছর ধরে হঠাৎ হঠাৎ এই মাতাল হওয়ার উপসর্গে ভুগে থাকেন।