শিরোনাম
◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন

প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৪:০৩ দুপুর
আপডেট : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

থাইল্যান্ডে শ্রম সংকট: বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

শ্রম সংকট মোকাবিলায় বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। এর অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথম ধাপে ১০ হাজার শ্রমিক আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন থেকেও শ্রমিক আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে।

থাইল্যান্ডের কৃষি, নির্মাণ ও মৎস্যশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেশী মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস থেকে আসা শ্রমিকরাই এ খাতের মূল শক্তি। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত কম্বোডিয়ার শ্রমিক ছিলেন ৫ লাখ ৬০৬ জন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুমান করছে, আরও প্রায় ৫ লাখ নিবন্ধনবিহীন কম্বোডিয়ার থাইল্যান্ডে কাজ করছেন।

advertisement

কিন্তু গত ২৪ জুলাই থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিজ দেশে ফিরে যান। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক লাখ শ্রমিক দেশ ছেড়েছেন। এতে শিল্পখাতে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী পংকাভিন জুয়াংরুয়াংকিত জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা এখনই ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি শ্রীলঙ্কান থাইল্যান্ডে কাজের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তবে ক্যাবিনেট বৈঠকের সারসংক্ষেপে স্পষ্ট উল্লেখ আছে—বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশি শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার শ্রমবাজারে কাজ করছেন। তুলনামূলক ভালো মজুরি ও কর্মপরিবেশ থাকলেও থাইল্যান্ড এখনো বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় গন্তব্য হয়ে ওঠেনি। তবে বর্তমান সংকট নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

advertisement

থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশটির বেকারত্বের হার ছিল মাত্র দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটিতে স্থানীয় শ্রমিকের অভাব রয়েছে। থাইল্যান্ড চেম্বার অব কমার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আনুসর্ন তামাজাই বলেন, ‘থাইল্যান্ডের শ্রমনির্ভর শিল্প বিদেশি শ্রমিক ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। কিন্তু দেশটি এখন বার্ধক্যজনিত সমাজে প্রবেশ করছে, ফলে শ্রম ঘাটতি আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে হলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। কারণ, এসব দেশে মজুরি ও কর্মপরিবেশ অনেক ভালো। নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনার জানালা হলেও সরকারিভাবে উদ্যোগ না নিলে সুযোগ কাজে লাগানো কঠিন হবে।

advertisement

অভিবাসী অধিকার সংগঠন মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সমন্বয়ক আদিসর্ন কের্ডমংকল জানিয়েছেন, এখনো পরিষ্কার নয় থাইল্যান্ড সরকার কোন খাতে শ্রমিক নেবে এবং কীভাবে তাদের আনা হবে। দূরবর্তী দেশ থেকে শ্রমিক আনতে বিমান ভ্রমণের খরচও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা ইতিবাচক হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রমিকদের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তথ্যসূত্র: নিক্কেই এশিয়া

 

  • সর্বশেষ