শিরোনাম
◈ র‍্যাবের ‘আয়নাঘরে’ ৭ ‘ডেথ সেল’, মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য (ভিডিও) ◈ সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কড়া সতর্কতা ◈ কারাতে দক্ষতার প্রদর্শন, কাঠের তক্তা ভাঙলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ভিডিও) ◈ দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশি হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নয়, তারা শরণার্থী: শুভেন্দু ◈ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ, আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী ◈ সম্পত্তি লিখে দিলেও থাকবে বাবা-মায়ের অধিকার, সম্পত্তি আইনে আসছে যুগান্তকারী সংশোধন ◈ কোনো ওষুধ নেই, নেই টিকাও! পৃথিবীর বুকে হাজির আরেক ভয়ংকর মহামারি? ◈ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ◈ ৭৫ বছর পর সৌদিতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, ছয় মিনিট ঢেকে থাকবে সূর্য

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ দুপুর
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খুলি না কেটে পারকিনসন্স চিকিৎসায় যুগান্তকারী পদ্ধতি ‘ফোকাসড আলট্রাসাউন্ড’

খুলি না কেটে শব্দতরঙ্গেই জব্দ হবে পারকিনসন্স, বলেছেন গবেষকরা। খুলি না কেটে এবং কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে পারকিনসন্সের মতো জটিল স্নায়ুরোগ নিরাময়ের এক বৈপ্লবিক উপায় খুঁজে পেয়েছেন তারা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই আধুনিক পদ্ধতির নাম 'ফোকাসড আলট্রাসাউন্ড'। 

বর্তমানে আমেরিকার ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিন, কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন এবং সফল হয়েছেন।

মগজের ভেতরে কী ঘটছে, স্মৃতির পাতা কতটা ঝাপসা হয়েছে, কোনো রোগ ঘাপটি মেরে রয়েছে কিনা, তা ধরা যাবে কাটাছেঁড়া ছাড়াই। চিকিৎসাও হবে আশানুরূপ। পারকিনসন্সের মতো জটিল স্নায়ুর রোগ জব্দ হবে শব্দের ধাক্কায়। সে উপায় আবিষ্কার করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা।

পারকিনসন্স নামটি পরিচিত। তবে রোগটি কী, তা আপনার বোধগম্য নাও হতে পারে। এটি স্নায়ুর এমন অসুখ যা একবার হলেই হাত-পা কাঁপা, কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং হাঁটাচলা করার সমস্যা শুরু হয়। স্নায়ুর রোগটিকে আগে থেকে চেনা সহজ নয়। ধরা তার চেয়েও বেশি কঠিন। এর উপযুক্ত চিকিৎসা নেই, ওষুধ নিয়ে রোগটিকে নির্মূল করা যায় না। 

পারকিনসন্সের রোগীর জীবনের একটা বড় পর্যায় কেটে যেতে পারে হুইলচেয়ারে বন্দি অবস্থায়। এমন জটিল ও দুরারোগ্য রোগও যে নির্মূল করা যেতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়েই মাথা ঘামাচ্ছেন গবেষকরা। এক উপায় বেরিয়ে এসেছে। তা হলো— শব্দশক্তি। অস্ত্রোপচার নয়, খুলিতে কাটাছেঁড়া নয়, ওষুধ নয়— কেবল শব্দের তাণ্ডবেই জব্দ হবে স্নায়ুর রোগ—পারকিনসন্স। মগজে পাঠাতে হবে শব্দতরঙ্গ। তার ধাক্কাতেই নষ্ট হয়ে যাওয়া স্নায়ুগুলো ধ্বংস হবে।

চিকিৎসাটির নাম ‘ফোকাসড আলট্রাসাউন্ড’। মগজের যে অঞ্চলের স্নায়ুগুলো জট পাকিয়ে শরীরে কাঁপুনি জাগায় এবং স্মৃতিশক্তি ঝাপসা করে দেয়, সেই স্নায়ুগুলোকে কব্জা করাই লক্ষ্য। তবে স্নায়ুকে বাগে আনা সহজ নয়। খুলি ভেদ করে স্নায়ুর ‘সার্কিট’ অবধি পৌঁছানো যথেষ্টই কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে অসম্ভবও বটে। সে কাজই করবে শব্দতরঙ্গ। শব্দের জোর কতটা, তা আলাদা করে বলে দিতে হয় না। তাই শব্দ দিয়েই ঝাপটা দেওয়া হবে স্নায়ুর জটকে। উচ্চ কম্পাঙ্কের কিছু শব্দতরঙ্গকে খুলির শক্ত আবরণ ভেদ করে পাঠানো হবে মগজের অন্দরে। সেই তরঙ্গ নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে তালগোল পাকিয়ে থাকা স্নায়ুকে সঠিক পথে আনবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুর কোষকেও নষ্ট করবে। মস্তিষ্কের যে এলাকার কোষ নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়ে স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দিয়েছিল, সেগুলোকে জাগিয়ে তোলাও হবে এর প্রধান কাজ।

দুভাবে শব্দের চিকিৎসা করা হয়। একটি ‘থার্মাল অ্যাবলেশন’। একাধিক শব্দতরঙ্গ এমন ভাবে মগজে পাঠানো হবে, যাতে সুস্থ কোষের ক্ষতি না হয়। সব তরঙ্গ একত্রিত হয়ে তাপ উৎপন্ন করবে, যা ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুকোষগুলোকে ধ্বংস করবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো মস্তিষ্কের রোগাক্রান্ত জায়গাটিতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলোর দেওয়ালে একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর থাকে, যাকে ‘ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার’ বলে। এই আস্তরণ এতটাই মজবুত যে, তা ভেদ করে ওষুধ বা অ্যান্টিবডি স্নায়ু অবধি পৌঁছাতে পারে না। শব্দের কাজ হবে জোরালো ধাক্কায় এ প্রাচীরকে সাময়িকভাবে আলগা করে দেওয়া, যাতে সঠিক পথে ওষুধ বা অ্যান্টিবডি মগজে পৌঁছে দেওয়া যায়। এর সুবিধা হলো— মস্তিষ্কে কাটাছেঁড়া করার প্রয়োজন হবে না। খুলিতে ছিদ্র করলে বা কেটে সেই প্রাচীর আলগা করার চেষ্টা করলে রোগীর বিপদ বাড়তে পারে। সেই কাজই শব্দতরঙ্গ দিয়ে করা হবে।

ফোকাসড আলট্রাসাউন্ডের গবেষণা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই হচ্ছে। আমেরিকার ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালযয়ের স্কুল অব মেডিসিন এবং কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ পদ্ধতিতে শুধু পারকিনসন্স নয়, মস্তিষ্কের অন্য জটিল স্নায়বিক ব্যাধি নিরাময়েরও চেষ্টা করছেন। কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়