মানুষের চোয়ালে স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা মোট ৩২টি, যার মধ্যে আক্কেল দাঁতও অন্তর্ভুক্ত। তবে কার্যত ২৮টি দাঁতই কর্মক্ষম—আক্কেল দাঁত বাদে। প্রতিটি দাঁতের নির্দিষ্ট কাজ থাকলেও আক্কেল দাঁতের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। এ কারণে একে অনেক সময় নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলা হয়। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো— এই দাঁত ওঠার সময়ই অনেকের জীবনে শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা।
কেন আক্কেল দাঁতে এত ব্যথা হয়?
অনেক ক্ষেত্রে চোয়ালে জায়গার অভাব থাকে বা আক্কেল দাঁতের অবস্থান স্বাভাবিক হয় না। ফলে দাঁতটি মাড়ি ভেদ করে সম্পূর্ণভাবে বের হতে পারে না।
কখনো দাঁতের একটি অংশ উঠে আবার আটকে যায়। এতে—
> দাঁত ও মাড়ির ফাঁকে খাদ্যকণা আটকে যায়
> মাড়িতে প্রদাহ (ইনফ্ল্যামেশন) তৈরি হয়
> তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়
> মুখ খুলতে বা হাঁ করতে কষ্ট হয়
সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই সংক্রমণ মুখ ও গলার গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কী করবেন / কী করবেন না
যা করবেন
> আক্কেল দাঁত ওঠার কারণে সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে
> ব্যথা কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পেইন কিলার দেওয়া হয়
> দিনে কয়েকবার গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করতে হবে
> ব্যথা ও সংক্রমণ কমে গেলে অনেক ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী মাড়ির সামান্য অংশ কেটে দেওয়া হয়, যাতে দাঁতটি স্বাভাবিকভাবে উঠতে পারে
> যদি দাঁতের অবস্থানজনিত ত্রুটি থাকে, তাহলে আক্কেল দাঁত তুলে ফেলাই উত্তম সমাধান
যা করবেন না
> দাঁত তুলতে কখনোই হাতুড়ে বা অননুমোদিত চিকিৎসকের কাছে যাবেন না
> ব্যথা কমেছে বলে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেবেন না
> নিজে নিজে ওষুধ সেবন করবেন না
আক্কেল দাঁতের ব্যথাকে অবহেলা করলে তা বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে। শুরুতেই সঠিক সিদ্ধান্ত ও সময়মতো দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা ও জটিলতা এড়ানো সম্ভব। ব্যথা সহ্য নয়— সঠিক চিকিৎসাই সমাধান।