থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিক থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। যাতে পেশি নমনীয় থাকে। আর শরীরকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দিলে থাইরয়েড ভালোভাবে কাজ করে এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আরও বলেছেন, আমাদের শরীরের মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাইরয়েড গ্রন্থি। যখন আমাদের শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি বা পুষ্টি পায় না, তখন শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়ে আর থাইরয়েড-অ্যাড্রিনাল সিস্টেম স্লো হয়ে যায়। এর ফলে ধীর মেটাবলিজম, ক্লান্তি, মনোযোগে অস্পষ্টতা এবং ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হচ্ছে— নিয়মিত ওষুধ সেবন (সকালে খালি পেটে), আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার (মাছ, ডিম, বাদাম) খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা, স্ট্রেস কমানো (যোগব্যায়াম, ধ্যান), পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।
থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট) প্রধান পরামর্শগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—
১. সঠিক সময়ে ওষুধ সেবন: হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ওষুধ খাওয়া জরুরি। ওষুধ খাওয়ার অন্তত ৩০-৬০ মিনিট পর নাস্তা করা উচিত।
২. নিয়মিত পরীক্ষা: থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা (TSH, T3, T4) নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের ডোজ পরিবর্তন বা বন্ধ করা যাবে না।
ইন্টার্নাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. সারাফ বলেছেন, হালকা শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন এবং শারীরিক স্ট্রেচিং, যেমন কাঁধ ও ঘাড়ের স্ট্রেচ মন ও স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। আর সকালে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। তবে এগুলো সরাসরি থাইরয়েডকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কিন্তু স্ট্রেস কমানো, রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখা এবং দৈহিক উত্তেজনা কমিয়ে শরীরকে কম চাপযুক্ত অবস্থায় রাখে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
ড. সারাফ আরও বলেন, ১ মিনিট ধরে নাক দিয়ে গভীর শ্বাস গ্রহণ করতে হবে। এতে কাঁধ ও ঘাড়ে রক্ত চলাচল সহজ হবে। সকালে প্রোটিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট গ্রহণ করতে হবে। সারাদিনের খাবারে সুষম খাবারকে প্রাধান্য দিতে হবে। এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে থাইরয়েডের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।