শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১১ মার্চ, ২০২৬, ০২:১৭ রাত
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের নতুন সরকারের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে দিল্লিকে পরামর্শ শ্রিংলার

নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার ভারতের প্রভাবশালী বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। শ্রিংলা এক সময় বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১০ মার্চ প্রকাশিত ‘ফের বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো যায়’ শিরোনামের নিবন্ধে শ্রিংলা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় আন্তরিক হয়, তাহলে ভারতের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ও সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক হবে।’

advertisement

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে শ্রিংলা মনে করছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ‘এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

শ্রিংলা মনে করেন, একটি নির্বাচিত সরকারের উত্থান বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে এবং আঞ্চলিক আস্থা পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতা তারেক রহমান ভারত সম্পর্কে তুলনামূলক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।

advertisement

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনকালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শ্রিংলা বলেন, ‘পূর্বের সেই স্মৃতি বর্তমানকে প্রভাবিত করবে না, তেমন নিশ্চয়তা দেওয়া মুশকিল। কিন্তু পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় ইতিহাসের বিপ্রতীপ পথ তৈরি করে দেয়।’

শ্রিংলা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মুখে। দেশটির বৈদেশিক ঋণ প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১-২২ সালের ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য কেবল কাম্য নয়, বরং প্রয়োজনীয়।

advertisement

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলেও তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে একটি কার্যকর শাসন-দর্শন ও রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর। এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ভারত সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়ে শ্রিংলা বলেন, নয়াদিল্লিকে ঢাকার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে কৌশলগত বাস্তববাদ এবং কূটনৈতিক সংযমের সমন্বয়ে। তবে তিনি একটি বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘বাংলাদেশকে কোনও অবস্থাতেই ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের শত্রুতামূলক পরিকল্পনার সহযোগী হতে দেওয়া যায় না।’

একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টিও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

 

  • সর্বশেষ