পৃথিবীর বিশাল সমুদ্র ও মহাসাগর কিভাবে পানিতে পূর্ণ হলো, সেই রহস্য অনেক দিন ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয়। আগে ধারণা ছিল, চাঁদ থেকে ছুটে আসা উল্কাগুলোই পৃথিবীতে পানি আনার প্রধান উৎস। কিন্তু নাসার সাম্প্রতিক গবেষণা এই ধারণাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করছে।
নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের গবেষক টনি গারগানো মহাসাগরের পানি নিয়ে এই নতুন গবেষণা করেছেন।
এটি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রসিডিংস টু দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’ পত্রিকায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের পৃষ্ঠে থাকা রোগোলিথ নামে ধূলিকণার মধ্যে খুব সামান্য পরিমাণ পানি আছে। রোগোলিথে থাকা পানি পৃথিবীর মহাসাগর ভরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। অর্থাৎ চাঁদ থেকে ছুটে আসা উল্কাগুলো যতটা পানি এনে দিতে পারে, তাতে মহাসাগর পূর্ণ করা সম্ভব নয়।
টনি ও তার সহকর্মীরা রোগোলিথের অক্সিজেন আইসোটোপ পরীক্ষা করে দেখেছেন, উল্কা বাষ্পীভূত হলেও কিছু অক্সিজেন সেখানে থেকে যায়। তারা আরো দেখেছেন, রোগোলিথে থাকা পানি মূলত চাঁদেই সঞ্চিত থাকে, বিশেষ করে চাঁদের মেরু অঞ্চলে, যা চিরকাল ছায়ায় ঢাকা।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই গবেষণা চাঁদের নির্দিষ্ট একটি এলাকার রোগোলিথের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। চাঁদের অন্য অংশের রোগোলিথে কত পানি আছে, তা এখনো জানা যায়নি।
তাই বলা যাবে না, চাঁদ থেকে আসা উল্কাগুলো সম্পূর্ণভাবে মহাসাগরকে পানিপূর্ণ করেছে। ভবিষ্যতে চাঁদের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো রোগোলিথ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে হবে, তারপরই আসল সত্য জানা সম্ভব হবে।
সূত্র : আনন্দবাজার