উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বেড়ে যায় শীতের মৌসুমে। এ সময় হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতাও বেড়ে যায়। শীতে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে থাকতে পারে দৈনন্দিন কিছু ভুলভ্রান্তিও। কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে এমন সমস্যার সমাধান সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া জরুরি—এটা যেমন ঠিক, তেমনই প্রয়োজন দৈনন্দিন যাপনেও নিয়ন্ত্রণ। তবে এর পরও রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্টের রোগী ও যাদের হাইপারটেনশন রয়েছে, তাদের এ সময়ে একটু বেশি সতর্ক থাকা দরকার। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দিষ্ট মাত্রার ওষুধ খাওয়া খুব জরুরি। তবে ওষুধের পাশাপাশি আরও কারণ থাকে, যা নিঃশব্দে এ সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষত শীতকালে। আসলে এই মৌসুমে প্রবল ঠান্ডায় শরীরের ধমনি ও শিরা সঙ্কুচিত হয়ে যায়। মূলত শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতেই এ সঙ্কোচন হয়। রক্ত চলাচলের নালি সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। ওষুধের পাশাপাশি আরও কিছু কারণ থাকে, যা নিঃশব্দে এমন সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। আচমকা রক্তচাপ যাতে বেড়ে না যায়, সে জন্য কী করা প্রয়োজন তা জেনে নিন।
লবণ দেওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে এড়িয়ে চলুন। শীতের দিনে হিমায়িত খাবার, প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটবন্দি স্যুপ ও ভাজাপোড়া খাওয়ার প্রবণতা থাকেই। এ ধরনের খাবারে বেশি লবণ থাকে। ফলে রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তা আরও বাড়তে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে পরিমিত লবণ দিয়ে রান্না করা খাবার খেলে এবং পাতে আলদা করে লবণ খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে গেলে শরীর ভালো থাকে। সে জন্য তা এড়িয়ে চলা উচিত।
আর শীতের লোভনীয় খাবার— কেক, পেস্ট্রি, পায়েস, হালুয়া, গুড়ের মিষ্টি খাওয়ার সময়ও এ ধরনের খাবারে প্রচুর ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকে। কোলেস্টেরল থাকলে এ ধরনের ফ্যাটজাতীয় খাবার খুবই ক্ষতিকর। ফ্যাট কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়িয়ে ধমনিতে ‘প্লাক’ তৈরি করতে পারে। যার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
এ ছাড়া শরীরচর্চার অভাবেও হয়। ঠান্ডায় সবাই জবুথবু হয়ে যান। বিশেষত বয়স্করা। ফলে স্বাভাবিক হাঁটাচলাও কমে যায়। যারা সকাল-বিকাল হাঁটাহাঁটি করেন, এ শীত মৌসুমে তারা হাঁটাহাঁটি বাদ দেন। সে কারণে শরীরচর্চা ও হাঁটাচলার অভাবে রক্তচাপ বেড়ে যায়।
আবার দেখা যায়, শীত মৌসুমে খাওয়া-দাওয়া বেশি হয় এবং শরীরচর্চার অভাবে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এ সময় ঘামও ঝরে কম। পানি খাওয়া কম হয়। গরম এবং কড়া পানীয় খাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে শীতে। ঘন ঘন চা-কফি আবার সান্ধ্য পার্টিতে মদপান— সব কিছুই বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তচাপ।
বিশেষত যাদের রক্তচাপ বাড়তির দিকে থাকে, তাদের পানীয় নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। ঘন ঘন চা-কফির বদলে, চা পাতা ছাড়া ভেষজ গরম পানীয়, যেমন— দারুচিনি ও আদা দিয়ে চুমুক দেওয়া যেতে পারে। এসব কিছুর প্রভাব পড়ে শরীরে। যার ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। সে জন্য সুস্থ থাকতে হলে ওজন বশে রাখা ভীষণ জরুরি।