মনিরুল ইসলাম: রাজধানীর অভিজাত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শনিবার রাতে এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নতুন চলচ্চিত্র ‘গুলশানের চামেলী’-এর শুভ মহরত। চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর এই আয়োজন পরিণত হয় এক তারকাবহুল মিলনমেলায়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা, শিল্পী ও প্রযোজকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরেণ্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও জাসাস কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির আহবায়ক হেলাল খান, কিংবদন্তি পরিচালক কাজী হায়াত, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খান, অভিনেতা মিশা সওদাগর, কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার, কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা, আলোচিত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন এবং অভিনেতা-প্রযোজক ডিএ তায়েব।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে নতুন এই চলচ্চিত্রের সফলতা কামনা করেন এবং বলেন, বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এই সময় এমন গল্পনির্ভর ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় সিনেমা নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হেলাল খান বলেন, “নতুন প্রজন্মের দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে। ‘গুলশানের চামেলী’ সেই ধারার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।”
কাজী হায়াত চলচ্চিত্রের গল্প ও নির্মাণমানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ভালো গল্প ও সঠিক নির্মাণই একটি সিনেমাকে দীর্ঘদিন দর্শকের মনে বাঁচিয়ে রাখে।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন কলকাতার অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। তিনি এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ায় চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টলিউডে নিজের অভিনয় দক্ষতার জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মধুমিতা বলেন, “বাংলাদেশের দর্শক ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমার একধরনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ভালো গল্প পেলে এখানে কাজ করতে চাই।”
‘গুলশানের চামেলী’ নাম থেকেই বোঝা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানকে কেন্দ্র করে গল্পটি আবর্তিত হতে পারে। নির্মাতা সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি হবে আধুনিক নগরজীবন, সম্পর্ক ও বাস্তবতার মিশেলে তৈরি একটি বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র, যেখানে থাকবে নাটকীয়তা, প্রেম ও সামাজিক বার্তা।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের তারকাবহুল আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সম্পৃক্ততা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে দেশ-বিদেশের শিল্পীদের যৌথ অংশগ্রহণ চলচ্চিত্রকে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমার যাত্রা শুরু হলো। এখন দেখার বিষয় এই প্রত্যাশার আলো কতটা পর্দায় বাস্তব রূপ পায়। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন মোহাম্মদ ইকবাল। প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার।
আগামী ডিসেম্বর থেকে সিনেমার শুটিং শুরু হবে বলে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল জানান। আগামী ঈদে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বলে পরিচালক জানান। তিনি আগাম ঈদ মোবারক জানিয়ে রাখেন।