শীতকালে সর্দিকাশি একটি নিত্যঘটনা। কখন ঠান্ডা লেগে যায়, তা বলা মুশকিল। আর শীতে বেড়ে চলা বায়ুদূষণও খুকখুকে কাশির অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। আপনার কাশির নেপথ্যে কোন কারণ, তা কি আপনি বুঝতে পারছেন?
শীতের খুকখুকে কাশি লেগেই থাকে। ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম পেলেও কিছুতেই স্বস্তি নেই। শীতে এ সমস্যা কমবেশি সবার, প্রতিদিনের। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা—কাশি যে শুধু ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাল সংক্রমণের ফলে হয় তা নয়। বরং এই শীতে বেড়ে চলা বায়ুদূষণও খুকখুকে কাশির অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। কাশি যদি দূষণের কারণে হয়, তাহলে সাধারণত শুষ্ক হয়। কখনো কখনো শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
বায়ুদূষণের সরাসরি প্রভাবে অনেক সময় শ্বাসনালিতে জ্বালা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ফলে শ্বাসনালির লিগামেন্ট ও টিস্যুতে প্রদাহ দেখা দেয়, যার ফলে কাশি হয়। এ কাশি দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে। আর ভাইরাস সংক্রমণ যেমন সর্দি, ফ্লু বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রে হলে কাশির সঙ্গে আরও উপসর্গ দেখা যায়। এই যেমন— গলাব্যথা, জ্বর, নাক থেকে পানি পড়া, ক্লান্তি বা সাইনাসের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া কফ বা শ্লেষ্মা জমতে পারে।
ভাইরাল সংক্রমণের কারণে কাশি ধীরে ধীরে হয়। জ্বর বা অন্য উপসর্গ না থাকলেও কাশি লম্বা সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। কফসহ, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, জ্বর এবং গলাব্যথা—এসব লক্ষণের মিল থাকে। সাধারণত এই কাশি কিছু দিনের মধ্যেই কমে যায়। সংক্রমণ কমলে কাশিও কমে। বাতাসে দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে কাশিও বাড়তে পারে। শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা শ্বাস নিতে জ্বালার অনুভূতি হতে পারে। দূষণের জন্য কাশি অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে থাকতে পারে। যদি পরিবেশে দূষণ না কমে, কাশিও কমে না। কিন্তু ভাইরাসজনিত কাশি সাধারণত সংক্রমণ কমলেই কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়। আবার যদি কাশি তিন সপ্তাহের বেশি সময় থাকে, তাহলে একই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, রক্তস্রাব কিংবা জ্বর বেড়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।