শীতে কম-বেশি সবাইকেই ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ আসা নিয়ে ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয়। একে তো হাড় কাঁপানো ঠান্ডা, তার উপর উষ্ঞ বিছানা ছেড়ে বারবার বাথরুমে যাওয়া অনেকের কাছেই ঝামেলার। এই ‘সমস্যা’ এড়াতে কেউ কেউ তাই রাতে পানি পান করা কমিয়ে দেন। যদিও শীতকালে কোনো দিন-রাত নেই, বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়। বিশেষত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি খুব বেশিই দেখা যায়। আর কারো ডায়াবেটিস থাকলে তো কথাই নেই!
তবে সাধারণত শীতকালে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়। বরং ঠান্ডার সময়ে শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া এটি। ঠান্ডায় শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যার প্রভাব পড়ে কিডনির ওপর। তাপমাত্রা কমে গেলে ত্বকের কাছের ক্ষুদ্র রক্তনালী বা ক্যাপিলারি সংকুচিত হয়। ফলে ত্বক থেকে তাপ বের হওয়ার পরিমাণ কমে যায়। বেশি রক্ত প্রবাহিত হয় শরীরের কেন্দ্রীয় অঙ্গগুলোর দিকে- বিশেষত কিডনির দিকে। কিডনিতে রক্ত প্রবাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাব তৈরির পরিমাণও বেড়ে যায়। এর সঙ্গে শীতে ঘাম কম হওয়ার কারণে শরীরের অতিরিক্ত তরল প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।
সাধারণত এই পরিবর্তনগুলো সাময়িক ও ক্ষতিহীন। এরপরও সবসময় এটিকে হালকা ভাবে নেওয়াও উচিত নয়।
কখন গুরুত্ব দেবেন?
শীতকালে বারবার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক হলেও, রাতের ঘন ঘন প্রস্রাব কিছু ক্ষেত্রে কিডনির উপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, যারা শারীরিক পরিশ্রম কম করেন বা আগে থেকেই কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে তাদের সতর্ক থাকা উচিত।
শীতে অনেক সময় রক্তচাপ কিছুটা বেড়ে যায়। কারণ ঠান্ডায় রক্তনালী সঙ্কুচিত হয় এবং শরীরচর্চা কমে যায়। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা কিডনির ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। কিডনি দুর্বল হতে শুরু করলে প্রস্রাব ঘন করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে বেশি পরিমাণে পাতলা প্রস্রাব তৈরি হয়। যার ফলে বারবার বাথরুমে যেতে হয়- বিশেষ করে রাতে। এই বারবার প্রস্রাব পাওয়াই কিডনির দুর্বলতার প্রাথমিক সঙ্কেত হতে পারে।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান?
• প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা হওয়া
• দুর্বল বা থেমে-থেমে প্রস্রাব হওয়া
• প্রস্রাবে বেশি ফেনা হওয়া
• মখ, পা বা চোখের নীচের অংশ ফুলে গেলে
• অস্বাভাবিক ক্লান্তির ফলেও হতে পারে
ফেনাযুক্ত প্রস্রাব সাধারণত প্রোটিন লসের কারণে হয়, যা কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। এছাড়াও প্রস্টেটের সমস্যা বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কেন সতর্কতা জরুরি?
কিডনির রোগ সাধারণত প্রথম দিকে নীরবে বাড়তে থাকে। তবে সহজ কিছু পরীক্ষা- ইউরিন টেস্ট, রক্তের ক্রিয়েটিনিন, রুটিন ব্লাড প্রেসার চেকের মতো পরীক্ষাগুলো কিডনির চাপ বা ক্ষতি দ্রুত ধরতে সাহায্য করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
• শীত কমে গেলেও বারবার প্রস্রাব পেলে সাবধান হন
• রাতে ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার কারণে ঘুম ব্যাহত হতে পারে
• দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা হলেও সাবধান হওয়া প্রয়োজন
উল্লেখ্য, যাদের পরিবারের কোনো সদস্যের কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের সবথেকে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সূত্র: যুগান্তর