বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বুধবার (১১ মার্চ) বাহরাইনের উত্থাপিত এই প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৩টি দেশ ভোট দেয়। তবে রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত ছিল।
উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি)= পক্ষ থেকে পেশ করা এই রেজোলিউশনে ইরানকে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল ফারিস আলরোয়াই বলেন, এই অঞ্চলটি বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণরেখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।
প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি বা হুমকি দেওয়ার বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নেভিগেশন বাধাগ্রস্ত করা বিশ্ব শান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি।
এদিকে প্রস্তাবটিকে ‘অসম ভারসাম্যহীন’ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে যারা হামলা চালাচ্ছে তাদের বিষয়ে এই দলিলে কোনো নিন্দা জানানো হয়নি, বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া আরব দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান না চালানোর অনুরোধও ওয়াশিংটন উপেক্ষা করেছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এই প্রস্তাবকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তার দাবি, এর মাধ্যমে আগ্রাসনকারীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোয় হামলা চালায়। একইসঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতেও হামলা চালিয়েছে তেহরান।