মনিরুল ইসলাম : রাজধানীর উত্তরায় এক সময় নাটক ও টেলিফিল্ম নির্মাণের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল অসংখ্য ‘শুটিং হাউজ’। দিনরাত শুটিং, শিল্পী-কলাকুশলীদের ব্যস্ততা আর প্রযোজকদের আনাগোনায় সরগরম থাকত এলাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র বদলে গেছে। শুটিং কমে যাওয়ায় একের পর এক শুটিং হাউজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিএনপি ও জাসাসের সাবেক নেতা বাবুল আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, এখন আর আগের মতো নাটকের শুটিং হচ্ছে না। বিজ্ঞাপনের বাজেট কমে যাওয়ায় নির্মাতারা নতুন কাজ হাতে নিতে পারছেন না। একসময় যেখানে একটি বিজ্ঞাপনের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকেশন ভাড়া পাওয়া যেত, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৭ হাজার টাকায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।
প্রথমত, বিদ্যুৎ সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করা যাচ্ছে না। আলো, ক্যামেরা ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞাপন বাজারে মন্দা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে পড়ায় টেলিভিশনকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন কমেছে। ফলে নাটক ও টেলিফিল্মে বিনিয়োগ কমে গেছে।
তৃতীয়ত, লোকেশন সংকট ও সামাজিক চাপ। উত্তরার আবাসিক এলাকাগুলোতে শুটিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শুটিং বন্ধের নির্দেশনাও এসেছে। ২০২৫ সালে উত্তরার একটি আবাসিক সেক্টরে নাটক ও চলচ্চিত্রের শুটিং বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা নির্মাতাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
উত্তরা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের নাট্য নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকের শুটিং হয়েছে এবং এখনও এটি নির্মাতাদের পছন্দের লোকেশনগুলোর একটি।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিল্পী ও কলাকুশলীরা বলছেন, কাজ কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। কেউ কেউ রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।
একজন সহকারী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে মাসে ২০-২৫ দিন কাজ থাকত, এখন ৫-৭ দিনও পাওয়া যায় না। এতে করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন
বাবুল আহমেদ প্রশ্ন তুলেছেন—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া যে সংস্কৃতিচর্চা ও সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্তমান প্রজন্ম তার কতটা জানে?
তার মতে, সংস্কৃতি ও নাট্যশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।