শিরোনাম
◈ দেশে ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা, ৬ মাসে অনুমোদন মাত্র ৩টির: লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় চ্যালেঞ্জ ◈ নেপালে বন্যার ৯ দিন পর জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে ২ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার, আরও ৫০০ নিখোঁজ ◈ কোম্পানিতে চাকরির নামে ‘সার্ভিস ভিসায়’ রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের! ◈ প্রতিবন্ধী নারীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর গাড়ি ◈ ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর ৮০ শতাংশই স্বল্পশিক্ষিত ও স্বাক্ষরজ্ঞানহীন ◈ আইসিসির এক সিদ্ধান্তে ২৪৪ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড! ◈ ‘শখের’ যুদ্ধই এখন ট্রাম্পের গলার কাঁটা, কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? ◈ আটক ইমরান খানের স‌ঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ক‌রে‌ছে পা‌কিস্তান সরকার: সৈয়দ আশরাফুল হক ◈ ‘সুপার সাইজড’ এল নিনো আসছে, বাড়ছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি : সতর্কতা জাতিসংঘের ◈ গণমাধ্যমে ‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ শিরোনামে সংবাদ, যা জানাল পুলিশ

প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৪ দুপুর
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:১৩ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

১০০ বর্ষে উত্তম: স্বপ্নপুরুষের উত্থান, ফ্লপ থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠার গল্প

মনিরুল ইসলাম : বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম উত্তম কুমার। তিনি কেবল একজন অভিনেতা নন; বাঙালির আবেগ, স্বপ্ন ও রোম্যান্টিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। তবে এই ‘মহানায়ক’ হয়ে ওঠার পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরুটা ছিল ব্যর্থতা, সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তায় ভরা।

দেশ স্বাধীন হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তখনো ‘মুক্তি’ আসেনি উত্তম কুমারের। কলেজ ছেড়ে সাধারণ চাকরিতে যোগ দেন তিনি। দিনের কাজ শেষে থিয়েটার, গান ও সিনেমার প্রতি অদম্য টান তাঁকে ধীরে ধীরে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলছিল।

চলচ্চিত্রে প্রথম সুযোগ আসে হিন্দি ছবি ‘মায়াডোর’-এ। সেখানে এক্সট্রা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। তবু থেমে যাননি উত্তম কুমার। ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যেতে থাকেন নিজের স্বপ্নের পথে।

চলচ্চিত্রে আসার আগেই গড়ে উঠেছিল গৌরীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু ‘দৃষ্টিদান’ মুক্তির পর সেই সম্পর্ক পরিবারে বাধার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে সাহস করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে সেই সম্পর্ককে পূর্ণতা দেন উত্তম কুমার। তাঁর ব্যক্তিজীবনেরও এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫১—টানা কয়েক বছর ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। ইন্ডাস্ট্রিতে একসময় তাঁকে ব্যঙ্গ করে বলা হতো ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’। কিন্তু এই ব্যর্থতাই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রথমবারের মতো দর্শক ও সমালোচকদের নজরে আসেন উত্তম কুমার। এরপর ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির মাধ্যমে শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি—উত্তম-সুচিত্রা।

পরবর্তীতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবিতে তাঁদের রসায়ন পৌঁছে যায় অনন্য উচ্চতায়। উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি হয়ে ওঠে বাঙালির প্রেম, রোম্যান্টিকতা ও স্বপ্নের প্রতীক। তাঁদের অভিনয়ের পাশাপাশি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে উত্তম কুমারের লিপও তৈরি করে এক বিশেষ আবহ। ‘শাপমোচন’ ছবির গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন।

উত্তম কুমারের চলচ্চিত্রজীবনে রঙিন সিনেমার অধ্যায়ও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-কে প্রথম রঙিন বাংলা ছবি মনে করেন। তবে এর আগেই ১৯৫৭ সালে ‘পথে হলো দেরী’ রঙিন ফিল্মে নির্মিত হয়েছিল। সংরক্ষণের অভাবে ছবিটির রঙিন প্রিন্ট পরবর্তীতে হারিয়ে যায়।

উত্তম কুমারের জীবন কেবল একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, সংগ্রাম, ভালোবাসা ও শিল্পের প্রতি গভীর নিবেদনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একসময় যাঁকে ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ বলা হতো, তিনিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা—বাঙালির চিরকালীন ‘মহানায়ক’।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার ডট কম

  • সর্বশেষ