শিরোনাম
◈ দেশে ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা, ৬ মাসে অনুমোদন মাত্র ৩টির: লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় চ্যালেঞ্জ ◈ নেপালে বন্যার ৯ দিন পর জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে ২ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার, আরও ৫০০ নিখোঁজ ◈ কোম্পানিতে চাকরির নামে ‘সার্ভিস ভিসায়’ রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের! ◈ প্রতিবন্ধী নারীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর গাড়ি ◈ ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর ৮০ শতাংশই স্বল্পশিক্ষিত ও স্বাক্ষরজ্ঞানহীন ◈ আইসিসির এক সিদ্ধান্তে ২৪৪ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড! ◈ ‘শখের’ যুদ্ধই এখন ট্রাম্পের গলার কাঁটা, কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? ◈ আটক ইমরান খানের স‌ঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ক‌রে‌ছে পা‌কিস্তান সরকার: সৈয়দ আশরাফুল হক ◈ ‘সুপার সাইজড’ এল নিনো আসছে, বাড়ছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি : সতর্কতা জাতিসংঘের ◈ গণমাধ্যমে ‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ শিরোনামে সংবাদ, যা জানাল পুলিশ

প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৮ দুপুর
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশে ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা, ৬ মাসে অনুমোদন মাত্র ৩টির: লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় চ্যালেঞ্জ

চলতি অর্থবছরের প্রথম এবং বর্তমান সরকারের ষষ্ঠ একনেক সভায় তিনটি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। বাপেক্সের প্রস্তাব করা এ প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-৫ ও বেগমগঞ্জ-৬ এবং সুনামগঞ্জের সুনেত্র-২ কূপ খনন করা হবে। সূত্র: ব‌ণিকবার্তা

দেশে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০০ কূপ খননের উদ্যোগ নেয়। এসব কূপ আগামী ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে করা হবে বলে সরকারের পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়। এরই মধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে, এ সময়ে কেবল তিনটি কূপ খননের অনুমোদন দিতে পেরেছে সরকার। আর এ তিনটি কূপই খনন করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

কূপ খননের অনুমোদন দেয়ার এ ধীরগতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছরেরও কম সময়ে বাকি ৯৭টি কূপ খনন করা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেয়া ৫০টি কূপ খননের প্রকল্পও নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা যায়নি।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, ১০০ কূপ খননে আগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১২০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরিকল্পনা বা প্রকল্প কাগজে-কলমে চূড়ান্ত হয়নি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা হয়েছে সাতটি। এসব সভায় মোট ৫৯টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুমোদন পেয়েছে কেবল একটি প্রকল্প।

চলতি অর্থবছরের প্রথম এবং বর্তমান সরকারের ষষ্ঠ একনেক সভায় তিনটি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। বাপেক্সের প্রস্তাব করা এ প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-৫ ও বেগমগঞ্জ-৬ এবং সুনামগঞ্জের সুনেত্র-২ কূপ খনন করা হবে। গত ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়।

স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২২ সালে ৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছিল। এসব কূপ খননের মাধ্যমে ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির সব কূপ খনন করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গ্যাসও যুক্ত করা যায়নি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ওই ৫০ কূপের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০টি খনন করা হয়েছে। বাকি ২০টি কূপকেও এখন সরকারের নতুন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কূপ খননে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে পর্যাপ্ত রিগের প্রয়োজন ছিল, যা বাপেক্সের নেই। এছাড়া প্রয়োজনীয় অর্থ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ইস্যুসহ নানা কারণে কূপ খনন করা যায়নি। এখন ১২০টি কূপ খননের পরিকল্পনা। আগের ২০টি এবং নতুন করে ১০০টি। সব মিলিয়ে এসব কূপ খনন করা হবে আগামী ২০৩১ সাল নাগাদ। কারণ বিপুলসংখ্যক কূপ খননের মতো অর্থ, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রসহ নানা ধরনের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সাল নাগাদ এসব কূপ খনন করা হলে সময় রয়েছে চার বছর। সে হিসাবে প্রতি বছর তাদের ৩০টি করে কূপ খনন করতে হবে। দেশীয় রিগ এবং বিদেশী কোম্পানির ভাড়া রিগ এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে কাজ দিয়ে এসব কূপ খনন করতে চায় পেট্রোবাংলা।

স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনাটি বিগত সময়ের। এ পরিকল্পনা বর্তমান সরকার নতুন করে সাজিয়েছে বলে জানান জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তখনকার পরিকল্পনায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ১০০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়, যার মধ্যে ৬৯টি অনুসন্ধান কূপ। বাকি ৩১টি বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার। এর মধ্যে বাপেক্স ৬৮টি কূপ খনন করতে চেয়েছিল। এ পরিকল্পনায় ২০২৮ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরো ১৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য ছিল। বাকি ৩২টি কূপ খনন করার কথা গ্যাস উত্তোলন কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল)।

১০০ কূপ খননে মোট ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলনও করা হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৩২৮ কোটি এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) ও কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়ন ৫ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। তবে এ পরিকল্পনার অর্থায়ন, কূপ খননের বার্ষিক পরিকল্পনা এবং সময়সীমা নতুন করে পুনর্নির্ধারণ হয়েছে।

দেশে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এ ঘাটতি পূরণে কূপ খননের পাশাপাশি সরকার বাইরে থেকে এলএনজি আমদানি করছে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণেরও উদ্যোগ নিয়েছে। সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানেও দরপত্র আহ্বান করেছে। তবে সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বপ্রথম অভ্যন্তরীণ গ্যাস খাতের উত্তোলনে জোরালো অনুসন্ধান ও কূপ খনন প্রকল্প আরো জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ