শিরোনাম
◈ একই সঙ্গে ৬৯ ক্রিকেটারকে নি‌য়ে পাঁচ প্রতিযোগিতায় পাঁচটি দল পাঠাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ◈ ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম এজেন্সির তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টের দ্বারস্থ ক্রিকেটার রিজওয়ান ◈ সৌদি-হুথি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ◈ তদবির করলে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ◈ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনি উদ্যোগ অব্যাহত, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাৎ ◈ বিচার বিভাগে বড় রদবদল, একযোগে বদলি ৯৯ বিচারক ◈ নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান ◈ গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও কাটছে না সংকট

প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৮ সকাল
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সৌদি-হুথি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি

যুদ্ধের কারণে সৌদি আরবের নির্মাণ, সেবা ও অন্যান্য শ্রমঘন খাতে প্রকল্পের গতি কমা, নতুন কর্মী নিয়োগ হ্রাস কিংবা বিদ্যমান কর্মীদের আয় ও কাজের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সে রকম কিছু হলে দেশটি থেকে আসা রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে। আর তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলমান অস্থিরতা গত কয়েকদিনে নতুন ও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইয়েমেন ফ্রন্ট। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার বিপরীতে সৌদি ভূখণ্ডে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। একই সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের কৌশলগত দখল এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় সংঘাতের পরিধি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে। সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশেরও। সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। একই সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশটি। সৌদি আরব থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ আনার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে সৌদি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করলে এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের রেমিট্যান্স, শ্রমবাজার, জ্বালানি ব্যয় ও বিনিয়োগেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

advertisement

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ বাংলাদেশী কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে গেছেন, যা ওই বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। চলতি বছর প্রথম আট মাসে সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৭ জন। দেশটি একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়েও দেশটি থেকে এসেছে ৫৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

যুদ্ধের কারণে সৌদি আরবের নির্মাণ, সেবা ও অন্যান্য শ্রমঘন খাতে প্রকল্পের গতি কমা, নতুন কর্মী নিয়োগ হ্রাস কিংবা বিদ্যমান কর্মীদের আয় ও কাজের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সে রকম কিছু হলে দেশটি থেকে আসা রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে। আর তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

advertisement

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে বিদেশী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক জনশক্তি সৌদি আরবে কাজ করে। ফলে অনেকে চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরত এলে শ্রমবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হবে। তখন রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করবে। রেমিট্যান্স যেভাবে আসছিল, সেটি ব্যাহত হলে রিজার্ভ বাড়ার গতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কভিডের সময় আমরা দেখেছি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হলে সেবা ও শিল্প—দুই খাতেই শ্রমের চাহিদা কমে যায় এবং অনেক প্রবাসীকে দেশে ফিরে আসতে হয়। সৌদি আরবের এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের সংকোচন ঘটালে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সামগ্রিকভাবে আমাদের অর্থনীতিতে একটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে।’

advertisement

সম্প্রতি হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চার শহরে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। খামিস মুশাইতে একটি বিমানঘাঁটি এবং আবহা, নাজরান ও জিজানে সৌদি আরামকোর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা আক্রান্ত হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নাজরান, খামিস মুশাইত, জিজান ও আবহায় জরুরি সতর্কতা জারি করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। পরদিন মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফেও বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে নিরাপদ থাকতে বলা হয়। একই দিনে জেদ্দা, আবহা, জিজান, আলউলা, তায়েফ ও গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি বন্দর ইয়ানবুতেও সতর্কতা জারি হয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মক্কা নগরীর কাছাকাছি ড্রোন ধ্বংসের ঘটনায়। মক্কায় হামলার চেষ্টাকে ‘রেড লাইন’ বলে উল্লেখ করেছে সৌদি আরব। অবশ্য হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গতকালও তায়েফ প্রদেশে আটকানো একটি হুথি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছে। একের পর এক হামলা ও জরুরি সতর্কতায় সৌদি আরবের স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবন অনেকটা স্বাভাবিক।

মক্কায় অবস্থানরত বাংলাদেশী সাব্বির রহমান গতকাল বলেন, ‘মসজিদুল হারামে প্রথমবারের মতো জরুরি সতর্কতার সাইরেন বাজানোর পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা সবাই মনে করতাম, সংঘাত যতই হোক, মক্কা নগরীতে হামলার মতো কোনো ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু এখন কাছাকাছি এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা ও ড্রোনের খবর আসায় সেই ধারণা বদলেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না। আমরা সতর্কভাবে চলাফেরা করছি।’

শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি সৌদি সংকটে বাংলাদেশের উদ্বেগের আরেকটি বড় জায়গা জ্বালানি তেল। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সৌদি আরব। দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৬৫-৭০ লাখ টন। এর মধ্যে ১৪-১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত সৌদি আরামকোর ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন। এ অপরিশোধিত তেল দেশের রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, বিটুমিন ও পেট্রলসহ ১৩ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়।

চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামোও এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইউরোপের বিভিন্ন রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ বন্ধ করেছে সৌদি আরব। সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত বেশ কয়েকটি কার্গোও বাতিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সৌদি অপরিশোধিত তেল সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে সৌদির সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় উচ্চ হারে বাড়তে পারে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সৌদি আরব নিজেও এ সংকটের অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত নয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ ও তেল পরিবহনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ফেব্রুয়ারির দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল থেকে আগস্টে নেমে প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেলে এসেছে, যা তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশটির ২০২৬ সালের বাজেটে ১৬৫ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ধরা হয়েছিল। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানো এবং তেল রফতানি সীমিত করার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। সৌদি অর্থনীতির ওপর চাপ যদি স্বল্পস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশী কর্মীদের ওপর বড় প্রভাব নাও পড়তে পারে। কিন্তু সরকার বা বেসরকারি খাত নতুন প্রকল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতে ব্যয় কমালে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি এবং বিদ্যমান শ্রমিকের কাজ ও আয়—দুটিই প্রভাবিত হতে পারে। সেই প্রভাব শেষ পর্যন্ত রেমিট্যান্সেও পৌঁছাতে পারে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করেন ফেনীর নুরুল আফসার। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কভিডের পর সৌদি অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য আগের অবস্থায় ফিরতে না ফিরতেই নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা আরো চাপে পড়েছি। সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা সতর্কতার পর দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে, বেচাকেনাও অনেক কম। এখন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসার আয় দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে আমাদের ক্ষতি আরো বাড়বে।’

সৌদি আরব থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ আকর্ষণে সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার। জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর করা সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বন্দরসহ বিভিন্ন খাতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানায়। রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বে টার্মিনাল নির্মাণে ১৮ কোটি ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দর খাতে মোট বিনিয়োগ ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

গত আগস্টে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে ওই সফরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন অস্থির থাকলে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সূচিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

সৌদিতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওপর নানামুখী প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব থেকে। একই সঙ্গে ইউরোপে আমাদের যে পরিমাণ পণ্য রফতানি হয়, সংঘাতের কারণে সেখানেও বিঘ্ন তৈরি হতে পারে। সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটলে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। পরিস্থিতির খুব বেশি অবনতি হলে তাদের সরিয়ে আনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমাদের মতো তুলনামূলক কম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের জন্য এটি বড় ঝুঁকি।’

দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। সৌদি সরকারের তথ্যভাণ্ডার ডেটাসৌদির হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রফতানি ছিল ১৪০ কোটি ডলার। এর বড় অংশ ছিল সার, খনিজ জ্বালানি ও তেল এবং প্লাস্টিক। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব ৪৫ দশমিক ৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার প্রধান অংশ তৈরি পোশাক। ফলে যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব বাণিজ্য ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এখনই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। কেজ বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ও ফ্রান্সভিত্তিক জিওপলিটিক্স স্ট্র্যাটেজি ল্যাবের প্রধান ড. সাজ্জাদ মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুদ্ধ আরো বড় আকার ধারণ করার দিকে যাচ্ছে। এতে সৌদি আরবের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। হুথিদের প্রশ্নে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি এখন তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে। তারা একের পর এক এলাকা দখল করছে। আপাতদৃষ্টিতে সৌদি আরবের পক্ষে এককভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রও এখনই এ সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নয়। সে সুযোগে হুথিরা জাতিসংঘ ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারকে আরো কোণঠাসা করে ফেলতে পারে।’

হুথিদের সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার আবহা, নাজরান ও জিজানসহ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কাজ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচুর বাংলাদেশী কৃষি, খামার ও ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব এলাকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে প্রথমে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে। সংঘাত তীব্র হলে দেশে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত রেমিট্যান্সেও পড়বে। এতে প্রবাসীদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও চাপে পড়বে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হবে।’

চলমান সংঘাতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: বণিক বার্তা 

  • সর্বশেষ