শিরোনাম
◈ সংসদে চার গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি গঠন, নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য ◈ ট্রেনে স্টারলিংকের ৬০ রাউটারের ৪৫টিই চুরি, নিয়ে গেছে অ্যানটেনাও ◈ যে কারণে হিজড়া ‘গুরুমাকে’ হত্যা করা হয়, জানালেন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকা ওই যুবক ◈ বহিষ্কৃত এমপিকে কমিটিতে রাখা নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, শেষমেশ নাম বাদ ◈ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে কমছে দাম, বাড়ছে ব্যয় ◈ অন্তর্বর্তী সরকারের হামের টিকার ভুল দরপত্র নীতিতেই শিশুদের প্রাণহানি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ বন্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণে জোর: অটোরিকশায় আসছে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ◈ ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের’ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সংসদে ◈ আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ◈ এবার রৌমারীতে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৯ বিকাল
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৭ রাত

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে কমছে দাম, বাড়ছে ব্যয়

মনজুর এ আজিজ: বাড়তি শুল্কের চাপ ও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে পোশাক আমদানিতে বড় ধরনের সংকোচন দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে দেশটির পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

তবে আমদানি করা পোশাকের গড় একক মূল্য সামান্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। এই সংকুচিত বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান চীন ও ভারতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই পোশাক খাত। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, শুধু জুলাইয়ে রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসের গড় পতনের তুলনায় জুলাইয়ে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে দ্রুত হারে।

অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয়, শ্রম ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ফলে পোশাকের দাম কমলেও কারখানার ব্যয় কমছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ‘অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল’ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) এই চিত্র তুলে ধরেছে।

ইউনিট মূল্যে শুল্কের চাপ: বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সাত মাসে রফতানি কমেছে প্রায় ৩২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বা ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ রফতানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি প্রতি ইউনিট পোশাক থেকেও আগের তুলনায় কম অর্থ পাওয়া গেছে। 

বাজার সংকুচিত, তবে বাংলাদেশের পতন কম: চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। তবে গড় একক আমদানি মূল্য সামান্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানি পতন কম হলেও জুলাইয়ের তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ওই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

ফলে বছরের প্রথম সাত মাসের গড় পতনের তুলনায় জুলাইয়ে রফতানি কমেছে আরও দ্রুত হারে। প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে চীনের রফতানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। পাকিস্তানের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। ভিয়েতনামের পতন তুলনামূলকভাবে সামান্য ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। তবে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া যথাক্রমে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

পরিমাণে পতন, প্রতিযোগিতায় চাপ : জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত বছরের প্রায় ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য থেকে তা কমে হয়েছে ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন। চীনের রফতানি পরিমাণ কমেছে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ভারতের ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীন ও ভারতের তুলনায় পতন কম হলেও ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগীরাও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখছে বা বাড়াচ্ছে।

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের বোঝা ভাগাভাগি করার যে চাপ ছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। মার্কিন ক্রেতারা আগের মতো ছাড় দিতে বলছেন না। ফলে আগামী দিনে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্রয়াদেশও বাড়ছে বলে তিনি জানান। 
তিনি বলেন, মূলত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের একটি অংশ বাংলাদেশের রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে। ফলে পোশাকের দাম কিছুটা কমিয়ে দিতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ইউনিট মূল্যে। রফতানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্কের এক-তৃতীয়াংশ, আবার কোনো ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম কমে যাওয়ার পেছনে শুল্কের বাড়তি চাপের পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক সংকোচনও কাজ করছে। শুল্কের একটি অংশ রফতানিকারকদের বহন করতে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পোশাকের দাম কমিয়ে দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন রফতানি মূল্য কমে যাওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।

তবে চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানি কম কমেছে- এটি একটি ইতিবাচক দিক। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রফতানিতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র হচ্ছে। তাই শুধু কম দামে পোশাক রফতানি করে বাজার ধরে রাখা নয়, মান, পণ্যের বৈচিত্র্য ও সরবরাহ সক্ষমতার দিক থেকেও বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, এই চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয়। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয়, শ্রম ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে কারখানার ব্যয় বাড়ছে। অথচ বিদেশি ক্রেতারা উল্টো কম দাম চাইছেন। ফলে একদিকে উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে, অথচ পণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমেছে।

অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা ধরে রাখতে লোকসানেও অর্ডার নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অনেক কারখানা রুগ্ন হয়ে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার মতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানাকে বেশি দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।

  • সর্বশেষ