দেশের বিমানবন্দরগুলোয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিতে বিদেশী কোম্পানির প্রবেশের পথ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ খাতে তাই বিদেশী কোম্পানির জন্য বাংলাদেশী অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠন এবং এতে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ শেয়ার বাংলাদেশী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ার শর্তও বাদ দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সূত্র: বণিক বার্তা প্রতিবেদন
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিমান চলাচল নির্দেশনা (এএনও) সংশোধনের প্রস্তাবে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত ১৩.২ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত আইনগত অনুমতি থাকা যেকোনো বাংলাদেশী, বিদেশী বা যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের (জিএইচএসপি) লাইসেন্সের জন্য বেবিচকের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে পারবে।
বর্তমান বিধানে বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গঠন বাধ্যতামূলক। ওই যৌথ উদ্যোগে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ শেয়ার বাংলাদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকতে হয়। পাশাপাশি চেয়ারম্যান অথবা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ার শর্ত রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এ দুটি শর্ত আর রাখা হয়নি।
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মূল পরিবর্তন হচ্ছে বিদেশী কোম্পানির জন্য স্থানীয় অংশীদার নিয়ে যৌথ উদ্যোগ গঠন এবং এতে ৫১ শতাংশ বাংলাদেশী মালিকানা রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ার শর্তও বাদ যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার উপযুক্ত আইনগত অনুমতি থাকা বিদেশী কোম্পানির জন্য সরাসরি জিএইচএসপি লাইসেন্সের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর ১৩.২ ধারায় যৌথ উদ্যোগের কারিগরি যোগ্যতার বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে যে অংশীদারের শেয়ার বেশি, তার কারিগরি যোগ্যতাকে যৌথ উদ্যোগের কারিগরি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে ১৩.৫ ধারায় শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানিকেও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান বিধানে বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে বিদেশী অংশীদারের যোগ্যতাকে জিএইচএসপির ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ‘শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি’ অথবা ‘যৌথ উদ্যোগ’—দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ করা কর্মীদের বৈধ কাজের অনুমতিপত্র থাকতে হবে এবং সরকারি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এ শর্ত প্রস্তাবিত বিধানেও বহাল রাখা হয়েছে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানের লাইসেন্সের আবেদন যাচাই ও পরিদর্শন ব্যবস্থায়ও সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং তদারকি ও মূল্যায়ন কমিটি একটি পরিদর্শন দল নির্বাচন করে। ওই দলে বিমানবন্দর, বিমান পরিবহন বিভাগ ও বিমান চলাচল সেবা বিভাগের একজন করে সদস্য থাকার বিধান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য সদস্যও যুক্ত করা যায়। পরিদর্শন শেষে দলটি কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে কমিটি তা পর্যালোচনা করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আরো পরিদর্শনের নির্দেশ দিতে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এ বিধানগুলো মূলত ধারার ক্রমপুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে; পরিদর্শন দলের গঠন ও কাজের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। লাইসেন্স অনুমোদন ও নবায়নের সঙ্গে যুক্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং তদারকি ও মূল্যায়ন কমিটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেবিচকের এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, এএনও সংশোধন করা হচ্ছে মূল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে বিদেশী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিকে যুক্ত করার লক্ষ্যে। তিনি জানান, থার্ড টার্মিনালে যদি বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে আনা হয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে জিএইচএসপি লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমান নিয়মে ৫১ শতাংশ স্থানীয় মালিকানার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় অংশীদার নিয়ে যৌথ উদ্যোগ নিতে হতো। প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে সে বাধা থাকবে না। ফলে বিদেশী প্রতিষ্ঠান সরাসরি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে।
এ বিষয়ে জানতে গতকাল একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।