স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের বারবার দেওয়া সতর্কতা ও চিঠিপত্র সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হামের টিকার সুপ্রতিষ্ঠিত সরবরাহ ব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন আনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের চালু করা ‘মুক্ত দরপত্র’ প্রক্রিয়ার ভুল নীতি ও আমলাতান্ত্রিক গাফিলতির কারণে দেশজুড়ে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়, যার বলি হতে হয়েছে অসংখ্য নিরপরাধ শিশুকে। বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, হাসপাতাল অবকাঠামো এবং টিকাদান কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় হলেও নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বহীনতায় টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।
টিকা সংকটের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা হঠাৎ পরিবর্তন করে মুক্ত দরপত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তৎকালীন ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স ৫-৬টি চিঠি ও প্রায় ১০টি বৈঠকে এই সিদ্ধান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করলেও তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেন।
তিনি বলেন, এর পরপরই অর্থ ছাড় ও ফাইল অনুমোদনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক গুদামে মজুত থাকলেও দেশে টিকা পৌঁছাতে মারাত্মক বিলম্ব ঘটে। গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে নিয়মিত টিকাদানে নজর দেওয়া হয়নি এবং ২০২৫ সালের হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বাতিল করায় দেশজুড়ে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, যা পরবর্তীতে সাধারণ শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাণঘাতী রূপ নেয়।