যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’-এ। ২০০৯ সাল থেকে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরিতে কোনো পরিবর্তন আসে নি। এ অবস্থায় নতুন এই বিলকে বড় ধরনের মজুরি সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটিতে।
বিলটি প্রথমে ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে এবং পরে ২৫ জুন সিনেটে উত্থাপন করা হয়। সিনেটে বিলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। প্রতিনিধি পরিষদে এর প্রধান উদ্যোক্তা কংগ্রেসওম্যান ডেলিয়া রামিরেজ। বর্তমানে উভয় কক্ষেই বিলটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। প্রতিনিধি পরিষদের সংস্করণে বড় ও বেশি লাভজনক কোম্পানিগুলোকে ২০৩১ সালের মধ্যে এই মজুরি কাঠামোয় যেতে বলা হয়েছে। ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের মজুরি সমন্বয়ের জন্য আরও সময় দিয়ে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
সিনেটের সংস্করণে বড় কোম্পানির জন্য সময়সীমা ২০৩২ এবং অন্যান্য ব্যবসার জন্য ২০৩৯ সাল পর্যন্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বিলের দুই কক্ষের সংস্করণে সময়সীমায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তা এক ধাপে নয়, কয়েক বছরের মধ্যে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। বিলটিতে ভবিষ্যতে জাতীয় মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া টিপসনির্ভর কর্মী, তরুণ কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান কিছু সাবমিনিমাম ওয়েজ বা কম মজুরির ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে, বিলটির পথ সহজ নয়। বর্তমানে কংগ্রেসে এটি কমিটির পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। ফলে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
বিলের সমর্থকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীদের মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যদিকে ব্যবসায়িক মহলে ফেডারেল পর্যায়ে এত বড় মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।