মনজুর এ আজিজ: সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। জিটুজি ভিত্তিতে আসা এলএনজির তুলনায় প্রায় দ্বিগুনের বেশি দাম ধরা হয়েছে। সোমবার ওই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে যথাক্রমে ২৪.৬২ মার্কিন ডলার ও ২৪.২৫ মার্কিন ডলার। যা জিটুজি ভিত্তিতে পাওয়া যায় কমবেশি ১০ ডলারে। কার্গো দু’টির একটি পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন সেপ্টেম্বরের ১৩-১৪ তারিখে আরেকটি টোটাল এনার্জিস গ্যাস এন্ড পাওয়ার লিমিটেড দেবে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর এলএনজি সরবরাহ করবে।
ইরান যুদ্ধের পর থেকে অস্থির হয়ে উঠেছে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে কাতার ও ওমান থেকে আসা এলএনজি সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে স্পর্ট মার্কেট থেকে দ্বিগুনের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর আগে চলতি মাসে ডিপিএম পদ্ধতিকে ৪ কার্গো এলএনজি আমদানির আদেশ দেওয়া হয়। যেগুলো কোনটাই দেশে আসছে না। যে কারণে দেশে মারাত্মক গ্যাস সংকট চলছে। পেট্রোবাংলা আশা করছে ৩০ তারিখ নাগাদ কিছুটা সহনীয় অবস্থায় আসবে গ্যাস সরবরাহ।
দেশীয় উৎপাদন কমতে থাকায় ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এ জন্য দু’টি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন করা হয়েছে। যা দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
পেট্রোবাংলা সুত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হতো। গতকাল ২৩ আগস্ট সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৩৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট আসছে।
আমদানিকৃত এলএনজি দাম যোগ করার পর চলতি বছরের প্রথম ৯ মাস (জুন-মার্চ) গড় ক্রয়মূল্য পড়েছে ২৭.৬৪ টাকা। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর (এপ্রিল-জুন ২০২৬) গড় ক্রয়মূল্য উঠেছে ৪৫.৭৯ টাকায়। ওই ৩ মাস গড়ে ২৩.৬৩ টাকায় বিক্রি করায় প্রতি ঘনমিটারে ঘাটতি হয়েছে ২১.৮২ টাকা। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।