শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১৩ মাসেও সাজিদ হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই, খুলছে না মোবাইলের লক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস পার হয়েছে। তবে দীর্ঘসময় তদন্ত কাজ চালিয়েও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। এমনকি নিহত সাজিদের ফোনের লকও খুলতে পারেনি সংস্থাটি।  

একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ড ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা নানান অমীমাংসিত প্রশ্নেরও তেমন কোনো সদুত্তর বের করতে পারেনি তারা। আর একারণেই প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে তদন্তের দীর্ঘসূত্রীতা। 

জানা যায়, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট ভিসেরা রিপোর্টে সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে।  

পরদিন ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটি পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে, সিআইডির তদন্তেও এ মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় একেরপর এক বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। পরে বাধ্য হয়ে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিআইডিকে দিয়ে কিছুদিন পরপর ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সামনে মামলার অগ্রগতি নিয়ে সিআইডির ব্রিফিং করাতো। 

তবে আশাব্যঞ্জক কোনো ফল জানাতে না পারায় একসময় সেই ব্রিফিংও বন্ধ হয়ে যায়।  

এভাবেই ৮ মাস পার হওয়ার পর সাজিদের বাবার আবেদনে চলতি বছরের মে মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে পাল্টে মহব্বত হোসেনকে দেওয়া হয়। তবে নতুন এ কর্মকর্তাও এ মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। 

এদিকে, সাজিদের মৃত্যুর পরও কয়েকবার তার মোবাইলে কল রিসিভ হয়। কিন্তু ওই কলগুলো কে রিসিভ করেছিল তার উত্তর মেলেনি। যেকারণে সার্বিক তদন্তের জন্য সাজিদের ফোনটি হেফাজতে নিয়েছিল সিআইডি। তবে দীর্ঘ ১৩ মাসেও ওই ফোনের লক খুলতে পারেনি সংস্থাটি। 

এ বিষয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা মহব্বত হোসেন বলেন, সাজিদের ফোনের লক খোলার জন্য আমরা এক্সপার্টে পাঠালেও তারা লক খুলতে পারেনি। রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে এ ব্যাপারে তাদের সাথে পুনরায় কথা বলব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে লক খোলা সম্ভব হলে অবশ্যই সেই পদ্ধতি গ্রহণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দিক দিয়েই তদন্ত এগোনোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একে গাফিলতি বলার সুযোগ নেই। পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের আমরা প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু প্রকাশ করতে পারছি না। 

  • সর্বশেষ